ম্যাপিং না হওয়া নাগরিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক দলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও। সামনেই বিধানসভা ভোট। এসআইআর-এর কারণে কার ভোট ব্যাঙ্কে কতটা ধ্বস নামতে চলেছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে অঙ্ক কষা।
নানা কারণে নদিয়ায় প্রায় দুই লক্ষ ১৬ হাজার মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। তার মধ্যে নদিয়া দক্ষিণে সংখ্যাটা অনেকটাই বেশি। নো-ম্যাপিং বা ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকা তালিকাতেও একই অবস্থা। নদিয়ার দক্ষিণেই মতুয়া, নমঃশূদ্র ও ও পার বাংলা থেকে আসা উদ্বাস্তু মানুষের বাস। মূলত, এঁদের ভোটেই বিগত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে এই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। ফলে, এই অংশের তালিকা থেকে ভোট বাদ যাওয়া মানে, সরাসরি বিজেপির ভোট ব্যাঙ্কে আঘাত করা। সে আঘাত ভোট বাক্সে কতটা ধ্বস নামাবে, আপাতত তারই হিসাব-নিকাশ করছে সব মহল।
বিশেষ করে, নো-ম্যাপিং ভোটার তালিকা রীতিমতো বিজেপির মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজেপি নেতারা এত দিন দাবি করছিলেন, এসআইআর-এ যাঁদের নাম বাদ যাবে তাঁরা সিএএ-তে আবেদন করলেই আবার ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারবেন। আইন মোতাবেক, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ পারে আসা শরণার্থীরা ভারতের নাগরিকত্বের আবেদন জানাতে পারবেন। কিন্তু সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, নাগরিকত্বের শংসাপত্র না পাওয়া পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম তোলা যাবে না। সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পরেই পাওয়া যাবে ভোটাধিকার। যাঁদের নাগরিকত্বের আবেদন বিচারাধীন রয়েছে, তাঁরা স্বাভাবিক ভাবেই ভোটার বলে গণ্য নন।
এতেই রীতিমতো বেকায়দায় বিজেপি নেতারা। কারণ এই মুহূর্তে সিএএ-প্রক্রিয়ার যা গতি, তাতে নির্বাচনের আগে খুব বেশি হলে ৮০ থেকে ৯০ হাজার মানুষের শুনানি সম্ভব হতে পারে। তারপরে শংসাপত্র হাতে পেয়ে নতুন ভাবে আবেদন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলা কতখানি সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। অর্থাৎ, যত জনের নাম ম্যাপিং হয়নি তার তুলনায় খুব বেশি সংখ্যক মানুষের নাম সিএএ-তে আবেদন করেও বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় তোলা যাবে না বলে মনে করছেন অনেকে। বিজেপির সিএএ সংক্রান্ত জেলা ভিত্তিক কমিটির সদস্য অমিত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরে যাঁরা এসেছেন, এখনও পোর্টালে তাঁদের জন্য আবেদন করা যাচ্ছে না। যদিও তাঁদেরকে প্রশসানিক ভাবে হয়রানি করা যাবে না।”
সেই তুলনায় উত্তরের সংখ্যালঘু প্রভাবিত এলাকায় নো-ম্যাপিং-এর সংখ্যা অনেকটাই কম। বলা যায়, অপেক্ষাকৃত স্বস্তিতে আছেন তৃণমূল নেতারা। জেলায় নো-ম্যাপিংয়ের সংখ্যা ২ লক্ষ ৭০ হাজার। তার মধ্যে মধ্যে উত্তরে সংখ্যা প্রায় ৫৩ হাজার। এই অংশে মুসলিম প্রভাবিত তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ১০ হাজার। বিজেপির দখলে থাকা একমাত্র বিধানসভা কেন্দ্র কৃষ্ণনগর উত্তরে প্রায় ১৮ হাজার। তৃণমূলের কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান বলেন, “এসআইআর-এর মাধ্যমে বিজেপি যে কতটা অন্ধকারে ঠেলে দিল, সেটা মানুষ হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছেন।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)