E-Paper

তালিকায় নাম নেই, হয়রানির অভিযোগ

প্রথম দিকে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস মিলেছিল বলেই দাবি পরিবারের। খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে ফর্ম ৬-এ আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সন্দীপ পাল

শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ০৯:২২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

২০২৫ সালের এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য প্রকাশিত ভোটার তালিকা ঘিরে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সত্তরোর্ধ্ব সুনীল মল্লিকের কাছে। স্ত্রী রাধারানী মল্লিকের নাম ভোটার তালিকায় ঠিকই রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই তালিকা থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে সুনীলবাবুর নাম। তাঁর অবশ্য ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নামও ছিল।

প্রথম দিকে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস মিলেছিল বলেই দাবি পরিবারের। খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে ফর্ম ৬-এ আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী আবেদনও করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, সেই আবেদনও শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায়। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে পর্যাপ্ত নথি নেই। এই পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

সুনীলবাবুর মেজো জামাই সঞ্জয় সেন বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরে থেকেই হয়রানির মুখে পড়ছি। প্রথমে ব্লক অফিসে গেলে তেমন সুরাহা পাইনি। পরে এক জন জানান, তালিকায় শ্বশুরমশাইকে মৃত দেখানো হয়েছে। তখন বলা হয়েছিল খসড়া তালিকা বেরোলে ফর্ম ৬-এ আবেদন করতে। আমরা আবেদন করে ব্লকে জমাও দিয়েছিলাম। কিন্তু কয়েকদিন আগে অনলাইনে চেক করে দেখি পর্যাপ্ত নথি নেই বলে আবেদন বাতিল হয়ে গেছে। আবার আবেদন করেছি। এখন অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।”

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এই ধরনের ঘটনা শুধু সুনীল মল্লিকের ক্ষেত্রেই নয়। নাকাশিপাড়া ও পাশের কালীগঞ্জ ব্লকেও নতুন ভোটারদের আবেদন বাতিল হওয়ার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সদ্য আঠারো বছরে পা দেওয়া বহু তরুণ-তরুণীর আবেদনও নথির অভাব দেখিয়ে বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৯ নম্বর বুথে ৩২ জনের আবেদন বাতিল হয়েছে, আবার ২০০ নম্বর বুথে ২৫ জনের নাম বাতিল হয়েছে একই কারণে। ১২৩ নম্বর বুথেও একাধিক আবেদন বাতিলের অভিযোগ উঠেছে। ১৯৯ নম্বর বুথের এক আবেদনকারী তাকবির আলী হালসানা বলেন, “আমার বৌমার নতুন ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম। হিয়ারিংয়ের সময় বলেছিল সব ঠিক আছে। পরে শুনলাম আবেদন বাতিল হয়ে গেছে। কেন বাতিল হল বুঝতে পারছি না।”

নির্বাচন দফতরের সূত্রে জানা গিয়েছে, অনলাইনে আবেদন জমা পড়ার পর তা বুথ লেভেল অফিসারের কাছে যায়। তিনি সরেজমিনে যাচাই করে আবেদন ব্লক অফিসে পাঠান। পরে সহকারী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার তা পরীক্ষা করে সন্তুষ্ট হলে পাঠান সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে। তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। তবে কাগজে-কলমে প্রক্রিয়া যতই স্পষ্ট হোক, বাস্তবে আবেদন করার পরেও সমাধান না মেলায় উদ্বেগ বাড়ছে। এ বিষয়ে নাকাশিপাড়া ব্লকের বিডিও স্নেহাশীষ দত্তকে ফোন করা হলে তিনি ফোন তোলেননি। আবার কালীগঞ্জের বিডিও কাঞ্চন রায় বলেন, “যদি কোনও সঠিক আবেদনকারীর নাম বাদ গিয়ে থাকে কেন বাদ গিয়েছে তা দেখা হবে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

nakashipara

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy