E-Paper

কাবিলের প্রচারে হাজির বাম, গরহাজির কাশেম

বুধবার কালীগঞ্জ কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী কাবিলউদ্দিন শেখের প্রচার মিছিলেও বাম কর্মী-সমর্থকদের যথারীতি দেখা গিয়েছে।

সন্দীপ পাল

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৫ ০৯:২৪
প্রচারে কাবিলউদ্দিন। বুধবার মীরা ১ পঞ্চায়েত এলাকায়।

প্রচারে কাবিলউদ্দিন। বুধবার মীরা ১ পঞ্চায়েত এলাকায়। নিজস্ব চিত্র।

খানিক দেরিতে হলে জোটসঙ্গী কংগ্রেসের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বামেরা। মঙ্গলবার সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য শ্রীদীপ ভট্টাচার্য অন্য নেতাদের নিয়ে এসে বৈঠক করার পরে বামেদের সক্রিয়তা চোখে পড়ছে। কিন্তু কংগ্রেসেরই একাংশ নিষ্ক্রিয় বলে অভিযোগ।

বুধবার কালীগঞ্জ কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী কাবিলউদ্দিন শেখের প্রচার মিছিলেও বাম কর্মী-সমর্থকদের যথারীতি দেখা গিয়েছে। সত্যি বলতে, এই প্রথম কংগ্রেস প্রার্থীর প্রচারে এত জনসমাবেশ দেখা গেল। কিন্তু এই প্রচারে বিশেষত যাঁর সবচেয়ে সক্রিয় থাকার কথা, সেই ব্লক কংগ্রেস সভাপতি আবুল কাশেমই নিষ্ক্রিয় রয়েছেন বলে অভিযোগ। মিটিং-মিছিলে দেখা যাচ্ছে না তাঁর অনুগামীদেরও।

এ দিন সকাল থেকেই মীরা ১ ও ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জোরকদমে প্রচারে নামেন কাবিলউদ্দিন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিপিএমের ব্লক ও জেলা নেতৃত্বের তরফে এসএম সাদি, দেবাশিস আচার্য, অজয় সরকার, জিন্নাত আলি, সাহানারা আহমেদ, গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। এ ছাড়া কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় এবং প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক অমিতাভ চক্রবর্তীও প্রচারে হাজির ছিলেন। ব্লক কংগ্রেস সভাপতি আবুল কাশেমের বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল যায়। তা সত্ত্বেও তাঁর দেখা মেলেনি।

কংগ্রেস সূত্রের খবর, দলে কাবিলউদ্দিন ও কাশেমের সম্পর্ক কোনও দিনই মসৃণ ছিল না। ২০২১ সালের নির্বাচনে কাশেম কংগ্রেস প্রার্থী হলে, নির্দল হিসাবে দাঁড়িয়ে পড়েন কাবিল। পরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এই বছরেই শাস্তি প্রত্যাহার করে তাঁকে দলে ফেরানো হয়েছে বটে, কিন্তু পুরনো বিবাদ যে এখনও মেটেনি তা কার্যত স্পষ্ট। বরং এতটাই তিক্ততা রয়েছে যে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ব্লকে এলেও কাশেম অনুপস্থিত ছিলেন। তবে অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে কাশেম এ দিন দাবি করেন, “ব্যক্তিগত কারণে আমি থাকতে পারিনি। তবে ব্লক কংগ্রেসের সবাই কাজ করছে।” তাঁর আশ্বাস, “আগামী দিনে নিশ্চয়ই প্রচারে হাজির থাকব।”

এই পরিস্থিতিতে কাবিলের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে সিপিএম। বাম নেতৃত্বও তা কার্যত মেনে নিচ্ছেন। তবে কংগ্রেসের অন্তর্কলহ মেটাতে না পারলে, সিপিএম যতই ময়দানে নামুক, জোটের পক্ষে এই আসন জেতা দূরস্থান, সম্মানজনক লড়াই দেওয়াও কঠিন হয়ে যেতে পারে। বিশেষত যেখানে উপনির্বাচনের আগে আর মাত্র কয়েকটা দিন হাতে রয়েছে।

প্রশ্ন হল, এই বিভেদ মেটাতে কংগ্রেসের উচ্চতর নেতৃত্ব কেন হস্তক্ষেপ করছেন না?

এ দিন এই প্রসঙ্গে নদিয়া জেলা কংগ্রেস সভাপতি অসীম সাহা বলেন, “একটু মান-অভিমান ছিল। আমার সঙ্গে কালীগঞ্জ ব্লক সভাপতি আবুল কাশেমের কথা হয়েছে। ওর লোকজন সবাই নেমে পড়েছে। কাশেম নিজেও শীঘ্রই প্রচারে নামবে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Congress CPIM Kaliganj

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy