নদিয়া জেলার ১৭টি বিধানসভার মধ্যে ১৩টি বিধানসভায় নেই এক জনও নতুন ভোটার! শেষ প্রকাশিত নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সেই তথ্যই দিচ্ছে। বিষয়টি সামনে আসতেই জেলা জুড়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসনের আধিকারিকেরা। তবে বাস্তব বলছে অন্য কথা। সদ্য ১৮ বছরে পা দেওয়া অনেকেই কমিশনের ৬ নম্বর ফর্মে আবেদন করে নতুন ভোটার হয়েছেন।
গত বছর ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল। আর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়। তার আগে নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য প্রায় দুই মাস সময় ছিল। কমিশনের তথ্য বলছে, করিমপুর, তেহট্ট, পলাশিপাড়া, কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, রানাঘাট দক্ষিণ, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম, কৃষ্ণগঞ্জ, শান্তিপুর, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, চাকদহ, কল্যাণী ও হরিণঘাটা এই ১৩টি বিধানসভায় নতুন ভোটারের সংখ্যা শূন্য।
যদিও কমিশনের তথ্য অনুযায়ী চাপড়া বিধানসভায় ২১০১, কৃষ্ণনগর উত্তরে ৩৫৯, নবদ্বীপে ৯৩১, কৃষ্ণনগর দক্ষিণে ১৬৩২ জন নতুন ভোটার হয়েছেন। জানা গিয়েছে, বয়স ১৮ হলে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম-৬ পূরণ করে জমা দিতে হয় বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-র কাছে। পরে আবেদনকারীকে সশরীরে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে শুনানিতে হাজির হতে হয়। সব ঠিক থাকলে সেই আবেদনপত্রের উপর লেখা হয় অনুমোদনপ্রাপ্ত বা 'অ্যাপ্রুভ'। পরে সেই আবেদন পত্রগুলি সংশ্লিষ্ট বিধানসভার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) কমিশনের নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করেন। তার পরে নতুন ভোটার তালিকায় যুক্ত হয় নতুন ভোটারদের নাম।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী জেলার ১৩টি বিধানসভায় নতুন ভোটারের সংখ্যা শূন্য। বিষয়টি নিয়ে হরিণঘাটা বিধানসভার ইআরও সৌগত পাত্র বলেন, ‘‘নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রে আমাদের দিক থেকে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে কমিশনের অন্য একটি পোর্টালে তা আপলোড হয়। এতদিন সেই কাজ করা যাচ্ছিল না। সে কারণে হয়তো নতুন ভোটারের সংখ্যা শূন্য দেখাচ্ছে। নির্বাচনের আগে আরেকটি তালিকা প্রকাশ হবে। আশা করি সেখানে পূর্ণাঙ্গ তথ্য থাকবে।’’ পোর্টালে যদি আপলোড না করা যায়, সে ক্ষেত্রে জেলার চার বিধানসভায় নতুন ভোটারের পরিসংখ্যান এল কী করে, তার উত্তর দিতে পারেননি জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)