Advertisement
E-Paper

গোষ্ঠী সংক্রমণ বুঝতে ভরসা ‘র‌্যান্ডম টেস্ট’

এখনও পর্যন্ত জেলায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের লালারসের নুমনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

সুস্মিত হালদার

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২০ ০৭:১৮
একটি শিশু স্বাস্থ্যপরীক্ষা শিবিরে ঢোকানো হল তাপমাত্রা মেপে। শুক্রবার। নিজস্ব চিত্র

একটি শিশু স্বাস্থ্যপরীক্ষা শিবিরে ঢোকানো হল তাপমাত্রা মেপে। শুক্রবার। নিজস্ব চিত্র

জেলায় করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণ হয়েছে কিনা বুঝতে যে সব এলাকায় রোগের প্রকোপ এখনও কম সেখানকার বাসিন্দাদের লালারসের নমুনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে
স্বাস্থ্য দফতর।

সেখানে হবে র‌্যান্ডম সাম্পলিং। অর্থাৎ, ব্লকগুলির এক-একটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে দিনে যে কোনও ২০ জনের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। যে সব এলাকায় এখনও কোনও করোনা আক্রান্তের সন্ধান মেলেনি বা খুব কম সংখ্যক আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে, সেই সব এলাকা থেকে র‌্যান্ডম স্যাম্পেল টেস্ট হিসাবে ২০ জনের শরীর থেকে নুমনা সংগ্রহ করা হবে।

যাঁদের শরীরে কোনও উপসর্গ নেই বা যাঁদের বাইরে থেকে আসার ইতিহাস নেই তাঁদের পাশাপাশি যাঁরা একেবারে সামনের সারিতে থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন (যেমন আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সিভিক ভল্যান্টিয়ার, পুলিশকর্মী প্রভৃতি)এবং যাঁদের বিভিন্ন কারণে নিয়মিত বাড়ির বাইরে যেতে হচ্ছে বা মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতে হচ্ছে তাঁদের এই পরীক্ষার ব্যাপারে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর। ব্লকের পাশাপাশি পুরসভা এলাকাগুলিতেও একই ভাবে র‌্যান্ডাম স্যাম্পেল টেস্ট করা হবে ওয়ার্ড ধরে।

এমনিতে এখনও পর্যন্ত জেলায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের লালারসের নুমনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিকই রয়েছেন প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার। জেলা প্রশাসন সূত্রের দাবি, এই মুহূর্তে লালারস পরীক্ষা করার মতো পরযায়ী শ্রমিক জেলায় আর অবশিষ্ট নেই বললেই চলে। ফলে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে সে ভাবে স্বাস্থ্য দফতরের আর মাথাব্যথা নেই। তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও পরীক্ষা করা প্রায় শেষ। কিন্তু তাতে জেলায় করোনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে না।

কারণ, সম্প্রতি জেলায় এমন অনেক আক্রান্তের সন্ধান মিলছে যাঁদের বেশির ভাগেরই কোনও উপসর্গ ছিল না। অনেকের ক্ষেত্রে আবার সংক্রমনের উৎসও চিহ্নিত করা যায়নি। নদিয়া জেলার যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে তাঁরা পরিযায়ী শ্রমিক ছিলেন না। ফলে জেলার স্বাস্থ্যকর্তারা অনেকেই মনে করছেন যে, জেলায় গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পরিস্থিতি বুঝতে র‌্যান্ডম স্যাম্পেল পরীক্ষার নীতি নেওয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।

নদিয়ায় প্রায় ২২টি লালারসের নমুনা সংগ্রহ করার কেন্দ্র রয়েছে। আর আছে দু’টি ভ্রাম্যমান নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্র। বিভিন্ন এলাকায় লালারস সংগ্রহের শিবির করার পাশাপাশি এই ভ্রাম্যমান কেন্দ্র বাড়়ানো হবে। জেলায় এখন প্রতিদিন গড়ে ছ’ থেকে সাড়ে ছ’শো মানুষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেটা বাড়িয়ে গড়ে আটশো থেকে সাড়ে আঠশো করা হবে বলে কর্তারা জানিয়েছেন।

এখন তেহট্ট মহকুমার পাশাপাশি কৃষ্ণনগর সদর মহকুমার কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, চাপড়া ব্লকের নমুনা বহরমপুরের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হচ্ছে আর কৃষ্ণনগর সদর মহকুমার বাকি অংশের পাশাপাশি রানাঘাট ও কল্যাণী মহকুমার নমুনা কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে প্রতিদিন পাঁচশো নমুনা পরীক্ষার মতো পরিকাঠামো আছে বলে জেলার কর্তাদের দাবি। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অপরেশ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “করোনা আক্রান্তদের চিহ্নিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”

Coronavirus
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy