পুজোর ভিড়ে কোভিড সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ছিলেন চিকিৎসকেরা। অতিমারি-কালে উৎসবে তাই রাশ টানতে পরামর্শ দিয়েছিলেন তাঁরা। হাইকোর্টের রায়ে তাঁদের স্বস্তি ফিরলেও, সপ্তমীর মেঘ কেটে যেতেই বিধির ব্যারিকেড ভেঙে পুজোর ভিড় চেনা নিয়মেই ভেঙে পড়েছিল শহর-গঞ্জে।
নিয়ম-বিধি মানার কথা বললেও বাস্তবে তা রক্ষা করতে পারেননি জেলার অধিকাংশ পুজো উদ্যোক্তারা। ভিড় নিয়ন্ত্রণে নেমেও তা সামাল দিয়ে উঠতে পারেনি জেলা পুলিশ। নিয়মের ব্যরিকেডের ও পাড়ে তাই ভিড়, ঢাকের তালে নাচ, ভাসান কালে চেনা শোভাযাত্রা, দশমীর পরে মণ্ডপে না হলেও দু’গজ দূরে দূরত্ববিধি না মেনেই সিঁদুর খেলা— বাদ যায়নি কিছুই। এ ব্যাপারে পুজো উদ্যোক্তাদের আন্তরিকতার অভাব ছিল বলেই মনে করেন জেলার স্বাস্থ্যকর্মী এবং চিকিৎসকদের একাংশ। পুজো মিটে যাওয়ার পরে জেলার অধিকাংশ মানুষও এখন বলছেন, এই ভিড় কাম্য ছিল না করোনা কালে। খাগড়ার একটি পুরনো পুজোর ভাসান যাত্রায় ভিড় ভেঙে ছিল উৎসাহীদের। তাসা থেকে বাজি পোড়ানো, সবই হয়েছে পুরনো নিয়ম মেনে। যদিও ওই পুজো কমিটির সম্পাদক অভীক চৌধুরী বলেন, “আমাদের ক্লাবের লোকজন ছিল কম। বাইরের মানুষজন ছিল বেশি। আমরা কী করব!” তিনিও বলছেন, এই ভিড় না হওয়াটাই উচিত ছিল। শুধু তাই নয় ভাসান যাত্রীদের মধ্যে ফেসকভার ছিল হাতেগোনা।
পুলিশ যে বিধি প্রয়োগে তেমন সফল নয়, ঠারেঠোরে তা মেনে নিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার কে শবরী রাজকুমার। পুজো শেষে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘যাঁরা বিধি ভেঙেছেন আগামী বছর তাদের পুজোর অনুমোদন ও সরকারি অনুদান বন্ধ হবে।’’ জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘সব তো পুলিশের ঘাড়ে দিলে চলে না, মানুষের নিজেরও কিছু কর্তব্য রয়েছে। উৎসবের মরসুমে পুলিশ কড়া হলে অশান্তি হত। সে জন্যই পুলিশ সব সময় চোখ রাঙাতে পারেনি।’’
তা হলে কি এখন সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার অপেক্ষা? জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ শঙ্করনাথ ঝা বলছেন, “ইতিমধ্যে সংক্রমণের হার বেড়েছে জেলায়। এই ভিড় এড়াতে পারলে আমাদের ভাল হত।” করোনাকালে দুর্গাপুজোর এই বিধির অনাচার দেখে চিন্তায় পড়েছেন কালীপুজোর উদ্যোক্তারা। ইতিমধ্যে ঘরোয়া বৈঠক সেরে নিয়েছেন তাঁরা। সবদিক বেঁধেই করোনা কালে পুজো প্রস্তুতি নিতে চাইছেন তাঁরা। তাঁদেরই একজন গোপাল সিংহ বলেন, “সব কিছু মানিয়ে যেভাবে পুজো করা যাবে সেভাবেই আমরা এ বারের পুজো করব।”