উচ্চৈস্বরে বাজনা নেই, নেই নাচানাচির বহর। শান্ত, সংযত মিছিল। ছোট ছেলেমেয়েরা হাতে বেলুন নিয়ে হাঁটছে। চোখে পড়ার মতো মহিলাদের উপস্থিতিও।
মিছিলের একেবারে সামনে সাবিনা ইয়াসমিন। তাঁর চোখেমুখে স্পষ্ট ক্লান্তি, আর কোথাও যেন চাপা কষ্টের ছাপ। গ্রাম প্রদক্ষিণ করতে করতে যখন মিছিল তামান্নার কবরের পাশ দিয়ে যায়, কিংবা সেই স্কুলের সামনে পৌঁছয়, তখন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। চোখ ভিডে ওঠে জলে। হাঁটতে হাঁটতেই বার বার মুখ ঘুরিয়ে নেন।
আট মাস আগের সেই রক্তাক্ত দুপুরের স্মৃতি এখনও তাজা মোলান্দি গ্রামে। গত বছর কালীগঞ্জ কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন বোমার আঘাতে মৃত্যু হয়েছিল সাবিনার মেয়ে, দশ বছরের তামান্না শেখের। সেই ঘটনায় তৃণমূলের বুথ সভাপতি-সহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ইতিমধ্যে ১১জন গ্রেফতারও হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে সাবিনাকেই কালীগঞ্জে প্রার্থী করেছে সিপিএম।
শুক্রবার সাবিনা যখন নিজের গ্রামে প্রচার করছেন, রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রামবাসীদের প্রতিক্রিয়াও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ এগিয়ে এসে হাতে তুলে দিচ্ছেন ফুল, কেউ আবার এসে জড়িয়ে ধরছেন সাবিনাকে। তার মধ্যে স্লোগানও উঠেছে, তামান্নাকে নিয়েও স্লোগান ছিল। মোলান্দি থেকে শুরু হয়ে সেই মিছিল শিয়ালখেলা হয়ে পাঁচখেলা পর্যন্ত গড়ায়। মিছিলে ছিলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুমিত দে, প্রাক্তন বিধায়ক ধনঞ্জয় মোদক, নেতা দেবাশিস আচার্যেরা।
সাবিনা বলেন, “আমারমেয়ের স্মৃতি এখানেই ছড়িয়ে আছে। আমি রাজনীতি করতে আসিনি,আমি এসেছি বিচার চাইতে। মানুষ যে ভাবে আমার পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তাতেই শক্তি পাচ্ছি।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)