ওড়িশার সম্বলপুরের দানিপালিতে ২৪ ডিসেম্বর রাতে দুষ্কৃতীদের গণপিটুনিতে মৃত পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল রানার মা নাজেমা বিবি এক মাত্র ছেলের মৃত্যুতে পাওয়া সরকারি চাকরি এখন ছেড়ে দিতে চান। এ দিন সুতির চক বাহাদুরপুরে নিজের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে এই চাকরি ছাড়ার কথা জানিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তিনি।
গ্রামেরই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে সাতসকালেই বাড়ির সকলে মিলে ভোটটা দিয়ে এসেছেন। জুয়েলের বাবা জিয়াউল হক প্রতিবার ভোট দিলেও এবারে ভোট দিতে পারেননি ভোটার তালিকা থেকে কাটা যাওয়ায়। তবু মেদিনীপুরে কাজের জায়গা থেকে ফিরেছেন যদি শেষ মুহূর্তে ভোটে নামটা ওঠে এই ভেবে। বেঙ্গালুরু থেকে ফিরেছেন জুয়েলের কাকা বরজাহান শেখ, কলকাতা থেকে আর এক কাকা আনোয়ার শেখও ।জুয়েলের ভোটে নাম ছিল প্রাথমিক তালিকায়। এসআইআরের শুরুতেই সে নাম বাদ পড়ে।
মা নাজেমা বিবি বলছেন, “বলা হয়েছিল স্থায়ী সরকারি চাকরি। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। ১০ হাজার টাকা বেতনের চুক্তি ভিত্তিক চাকরি। প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে অফিস যেতে তিন বার অটো ও টোটো বদলাতে হয়। ভাড়া গুনতে হয় মাসে প্রায় ৪ হাজার টাকা। বাকি ৬ হাজার টাকা তো বাড়িতে বিড়ি বাঁধলেই রোজগার হত।ছেলে মাসে ২৫ হাজার টাকারও বেশি আয় করত।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমি অনেককেই বলেছি সুরাহার জন্য। কিন্তু সকলেই বলেছেন এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া কারও কিছু করার নেই। আমি তাই এক বার মমতাদির সঙ্গে দেখা করতে চাই।”
তৃণমূলের সাংসদ খলিলুর রহমান অবশ্য বলেন, "জুয়েলের মা আমার কাছে এসেছিলেন। চাকরির বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি ভোট মিটলে দিদির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)