Advertisement
E-Paper

ফের হাসপাতালেই ঠাঁই বৃদ্ধার

আনন্দ করে ছেলের সঙ্গে বাড়ি ফিরেছিলেন দুলালিদেবী। দু’সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই আবার ফিরে এলেন শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের মানসিক বিভাগে। মূলত যাদের উদ্যোগে বাড়ি ফিের যেতে পেরেছিলেন দুলালি সাহা, সেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যেরা সম্প্রতি তাঁর বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন দুই ছেলে মায়ের যত্ন তো দূর, মারধর শুরু করেছে। আর দেরি করেননি তাঁরা।

সুস্মিত হালদার

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০১৫ ০০:৩১

আনন্দ করে ছেলের সঙ্গে বাড়ি ফিরেছিলেন দুলালিদেবী। দু’সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই আবার ফিরে এলেন শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের মানসিক বিভাগে।

মূলত যাদের উদ্যোগে বাড়ি ফিের যেতে পেরেছিলেন দুলালি সাহা, সেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যেরা সম্প্রতি তাঁর বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন দুই ছেলে মায়ের যত্ন তো দূর, মারধর শুরু করেছে। আর দেরি করেননি তাঁরা। হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফের তাঁকে হাসপাতালে ফেরানোর ব্যবস্থা করেন। সোমবার থেকে ফের হাসপাতালই তাঁর স্থায়ী ঠিকানা।

২০০৭ সালের অগস্ট থেকে এই হাসপাতালের মানসিক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকার সুবাদে এক ডাকে সকলে তাঁকে চেনেন। তিনি আর পাঁচটা মানসিক রোগীর মতো নন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরও মত, দীর্ঘ চিকিৎসার সুবাদে দুলালিদেবী অনেকটাই সুস্থ। বাড়ির লোক ফিরিয়ে না নেওয়ায় মানসিক ওয়ার্ডে আর পাঁচটা রোগীর সঙ্গেই ছিলেন। তালা বন্ধ গেটের ও পারে তাঁদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন হাসি-কান্না। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে রাত জেগে সেবাও করতেন। এমনটাই চলছিল।

কিন্তু, বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগটা করিয়ে দিয়েছিল চাপড়ার এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তারা এই ওয়ার্ডে প্রায়ই ফল, কম্বল-সহ নানা রকম দিত। তাঁদেরই এক জন এক দিন বাড়ির কথা জানতে চাইলে গড়গড় করে নিজের নাম, ঠিকানা মায় ছেলের নামও বলে দিয়েছিলেন তিনি। চাপড়া সেই মানব কল্যাণ সমিতির সদস্যদের উদ্যোগেই ২৯ মে বড় ছেলের হাত ধরে বর্ধমানের মেমারি থানার গোহার হাটতলার বাড়িতে ফিরেছিলেন তিনি। স্বামী মারা গিয়েছে অনেক আগেই। বাড়িতে দুই ছেলে। স্বজনদের ফিরে পেয়ে সে দিন চোখের জল বাঁধ মানেনি দুলালিদেবীর। কিন্তু, তারপর কী অপেক্ষা করছে, কে জানত!

দুলালিদেবীর জা মীরা সাহার কথায়, ‘‘বাড়িতে যাওয়ার পর থেকে দুই ছেলে অত্যাচার করতে শুরু করে। ওষুধ খেতে দিত না। মারধর করত। দিদি ভাল মানুষ, মুখ বুঝে সব সহ্য করতেন।’’ যে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাত ধরে তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন, তার সদস্যেরা গত বৃহস্পতিবার দুলালীদেবীকে দেখতে যান। বিষয়টি জানাজানি হয়। দুলালিদেবীর দুই ছেলে প্রণব ও মানব। তারা অবিবাহিত। প্রতিবেশীরা জানান, মায়ের প্রতি দু’ভায়েরই টান নেই। পড়শি শেখ মহম্মদ বলেন, ‘‘মা নিখোঁজ। অথচ দুঃখ তো দূর, ছেলেদের কোনও দিন সে ভাবে খোঁজখবর করতেও দেখিনি। বাড়িতে মা ফেরার পরেও ছেলেরা অত্যাচার করত। গ্রামের লোক সহ্য করতে না পেরে ওদের মারধর করে।’’

১৯৯৮ সালে দুলালিদেবীর স্বামী মদন সাহা মারা যান। তার পর থেকে ছেলেদের কাছেই থাকতেন। কিন্তু মাঝে মধ্যে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতেন। ২০০৫ সালে বোনের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। তার পর নানা জায়গা ঘুরে দুলালীদেবীর ঠাঁই হয় শক্তিগর জেলা হাসপাতালে।

হাসপাতালে ফিরতে পেরে খুশি দুলালিদেবী। মানসিক বিভাগে ঢুকে ফের তিনি গল্পে মাতেন বন্ধুদের সঙ্গে। সকলের কুশল জিজ্ঞাসা করেন। এ দিন সঙ্গে আসা জা মীরাদেবীকে তিনি বলেন, ‘‘হ্যারে মীরা, আমায় দেখতে আসবি তো?’’ নিজেকে সামলাতে পারেননি মীরা। শাড়ির আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে বাড়ির পথ ধরেন তিনি।

Dulali Debi mental hospital Chapra shaktinagar Susmit Halder
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy