Advertisement
E-Paper

নিভৃতাবাস থেকে ফিরে আক্রান্ত

কী ভাবে রিপোর্ট পাওয়ার আগে এক জনকে নিভৃতাবাস থেকে বাড়িতে ছেড়ে দেওয়া হল তা নিয়ে কার্যত মুখে তালা দিয়েছেন কর্তারা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২০ ০৫:২৮
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

সাত মাস পরে গুজরাত থেকে ফিরে সোজা যেতে হয়েছিল কোয়রান্টিন কেন্দ্রে। দু’সপ্তাহ সেখানে কাটিয়ে চাপড়ার বাদলাঙ্গি এলাকায় নিজের বাড়ি ফিরেই বছর কুড়়ির যুবক ছুটে চলে গিয়েছিলেন মাঠে। বন্ধুদের সঙ্গে চুটিয়ে ক্রিকেট খেলেছিলেন।

কিন্তু পরদিন সকালেই এল অপ্রত্যাশিত খবর। স্বাস্থ্য দফতরের লোক এসে খবর দিলেন, তাঁর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। ফলে, পাঠিয়ে দেওয়া হল কল্যাণীর কোভি়ড হাসপাতালে। আর সেই সঙ্গে গোটা একটা দিন তাঁর সংস্পর্শে পরিবারের যে ১৩ জন এবং গ্রামের যে ১২ জন এসেছিলেন, তাঁদেরও পাঠাতে হয়েছে চাপড়ার বেলতলা আইটিআই-এ কোয়রান্টিন সেন্টারে। ওই পাড়াকে কন্টেনমেন্ট জোন করে দেওয়া হয়েছে। গৃহবন্দি হতে হয়েছে ৭০টি পরিবারকে।

ঘটনা নিয়ে আপাতত তোলপাড় জেলা স্বাস্থ্য দফতর। কী ভাবে রিপোর্ট পাওয়ার আগে এক জনকে নিভৃতাবাস থেকে বাড়িতে ছেড়ে দেওয়া হল তা নিয়ে কার্যত মুখে তালা দিয়েছেন কর্তারা। উঠেছে বিতর্কের ঢেউ।

সোমবার স্কুলের কোয়রান্টিন সেন্টার থেকে বাড়ি ফিরে যে ১২ জন বন্ধুর সঙ্গে ওই যুবক ক্রিকেট খেলেছিলেন তাঁদের অন্যতম সাজিম শেখ বলেন, “অহেতুক হয়রানি। কেন যে রিপোর্ট আসার আগেই তাকে ওকে ছেড়ে দেওয়া হল সেটাই বুঝতে পারছি না। আমাদের মধ্যে যদি কেউ আক্রান্ত হয় তার দায়ীত্ব কে নেবে?”

আক্রান্ত ওই যুবকের ভাই কোয়রান্টিন সেন্টারে আছে। ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে হলে তিনি বলেন, “দাদা বাড়ি ফেরার পর স্বাভাবিক ভাবেই সকলের সঙ্গে মেলামেশা করেছিল। আমরা তো ভেবেছিলাম, যকন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তখন নিশ্চয়ই আর কোনও সমস্যা নেই। আর একটা দিন অপেক্ষা করলেই তো মিটে যেত। বাড়ির বাচ্চালোর জন্য খারাপ লাগছে।”

আক্রান্ত ব্যক্তির গ্রামেই বাড়ি তৃণমূলের চাপড়া ব্লক সভাপতি তথা জেলা পরিষদের সদস্য জেবের শেখের। তিনি বলেন, “আমি যতটা জানি, সরকারি নির্দেশিকা মেনেই ওই যুবককে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। তার পরও বলব, নমুনা যখন সংগ্রহ করা হয়েছিল তখন রিপোর্ট আসার আগে তাঁকে ছেড়ে না দিলেই ভাল হত।”

কোয়রান্টিন কেন্দ্রে তাঁর লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে হয় ১৩ জুন। এরই মধ্যে ১৫ জুন তাঁর কোয়রান্টিনে থাকার ১৪ দিনের মেয়াদ শেষ হয়। তখনও করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট এসে পৌঁছোয়নি। কিন্তু রিপোর্ট হাতে না-পেয়ে অর্থাৎ তাঁর করোনা রয়েছে কিনা জানার জন্য অপেক্ষা না-করেই তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

কেন এমন হল?

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোয়রান্টিন সেন্টারগুলি নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ প্রশাসন। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে ভিলেজ রিসোর্স পার্সনদের দিয়ে কোয়রান্টিন সেন্টারগুলির উপরে নজরদারি চালানো হয়। তারাই কে কবে সেন্টারে ঢুকলেন আর কার কবে ১৪ দিন শেষ হচ্ছে, তার হিসাব রাখে। তা হলে কি সাধারণ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কারণেই এমন ঘটল?

জেলার এক স্বাস্থ্য কর্তার কথায়, ‘‘রাজ্য থেকে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে যে, পরিযায়ী শ্রমিকেরা ফিরলে ১৪ দিন কোয়রান্টিনে রাখতে হবে। তার পর উপসর্গবিহীন বা সামান্য উপসর্গ আছে এমন লোকেদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া যেতে পারে।”

তাঁর কথায়, “কোনও উপসর্গ না-থাকায় ১৪ দিন পরে ওই শ্রমিককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। সবার ক্ষেত্রে রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করলে সমস্যা আরও বাড়বে।” জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, এর আগেও কোয়রান্টিন সেন্টারে ১৪ দিন কেটে যাওয়ার পর অনেকের রিপোর্ট এসেছে। সে ক্ষেত্রে সমস্যা হয়নি, কারণ রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল। এ বার রিপোর্ট পজিটিভ আসায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অপরেশ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ঠিক কি ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

Coronavirus Health Covid-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy