ভিন্রাজ্যে কাজে গিয়ে গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়নি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখের। আত্মহত্যা করেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পরে এই তথ্য দিল ঝাড়খণ্ড পুলিশ।
আলাউদ্দিনের মৃত্যু নিয়ে গত শুক্রবার থেকে টানা দু’দিন অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা-সহ মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ অংশ। ভাঙচুর, পুলিশ এবং সাংবাদিকদের উপর হামলা হয়েছে। তার প্রেক্ষিতে গ্রেফতার হন বেশ কয়েক জন। পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটনের জন্য ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে ফোন করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সূত্রে খবর, সোরেনও জানিয়েছিলেন, ঝাড়খণ্ড পুলিশ দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ করবে। শেষমেশ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে রেখে পুলিশ জানিয়েছে, কী ভাবে আলাউদ্দিন মারা গিয়েছেন। রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জীবিত অবস্থায় গলায় ফাঁস লাগানোর ফলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি।
ঝাড়খণ্ডের পলমু জেলার বিশ্রামপুর থানা এলাকায় একটি ঘর ভাড়া করে থাকতেন বেলডাঙার আলাউদ্দিন। পুরনো বাসনের বদলে নতুন বাসন ফেরি করতেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার সেই ঘর থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এলাকায় রটে যায় ভিন্রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকের উপর হামলা চালানো হয়েছে। তাঁকে পিটিয়ে মেরে পরে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে পরিবার। ওই খবর আলাউদ্দিনের গ্রামে পৌঁছোতেই শুরু হয় শোরগোল। গত শুক্রবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল বেলডাঙা। দফায় দফায় পথ অবরোধ, বিক্ষোভ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
তবে এই শুক্রবার পলামু জেলার পুলিশ যে রিপোর্ট দিয়েছে, সেখান থেকে জানা যাচ্ছে, আলাউদ্দিনের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। এমনকি, তাঁর দেহ উদ্ধারের আগে ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার সানি রাজ জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের প্রতিনিধিদল ঝাড়খণ্ডে গিয়ে তদন্তকারী আধিকারিক এবং নিহতের আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলেছে। প্রাথমিক তদন্তে খুনের কোনও প্রমাণ মেলেনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আমাদের হাতে আসার পরে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়েছে।’’