ডোমকলের তৃণমূল নেতাদের দলবদল নতুন কোনও ঘটনা নয়। ভাগের গন্ডগোল নিয়ে এর আগে অনেক বার এ দল সে দল করেছেন তাঁরা। কিন্তু এ বার তৃণমূল হেরে যাওয়ার পর সটান বিজেপির পায়ে পড়ে যাওয়া দেখে হতবাক ডোমকলের আমজনতা। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হতেই শান্তি কুঞ্জের সামনে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে ডোমকলের একাধিক তৃণমূল নেতাকে। তবে সে সময় ঘণ্টার পরে ঘণ্টা দুয়ারে দাঁড়িয়ে থেকেও লাভ হয়নি। ফলে এ বার সোজা দিল্লির দরবারে। কেন্দ্রের প্রাক্তন ক্যাবিনেট মন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতির সঙ্গে দেখা যায় তাঁদের। যা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অনেকেই বলছেন এই নেতারা এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত যে এখন পিঠ বাঁচাতে তাদের দিল্লি পর্যন্ত দৌড়াতে হচ্ছে। ডোমকলের এই নেতাদের মধ্যে ছিলেন একাধিক প্রাক্তন কাউন্সিলর। এমনকি ডোমকল পুরসভার একসময়ের তৃণমূলের উপ-পুরপ্রধান প্রদীপ চাকিও ছিলেন ওই দলে। যদিও তাঁর দাবি, ‘‘আমরা আদতে রাজস্থান বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেই সময় ওই প্রাক্তন মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছি।’’
তবে কেবল ডোমকলের তৃণমূল নেতা নয়, মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য তথা তৃণমূলের সদ্য প্রাক্তন নওদা ব্লকের যুব সহ সভাপতি সঞ্জয় হালদারকেও দেখা গিয়েছে ওই দলে। সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ছবিতে দেখা যাচ্ছে বিজেপির প্রাক্তন ওই মন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা এ রাজ্যে কলকে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত দিল্লি গিয়েছিল ডোমকলের একদল দুর্নীতিগ্রস্থ তৃণমূল নেতা। কিন্তু সেখানেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বর্তমানের প্রভাবশালী কোনও নেতার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি তাঁরা। শেষ পর্যন্ত প্রাক্তন ওই মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেই দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দিনেই শান্তি কুঞ্জের সামনেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল প্রদীপ চাকি ছাড়াও প্রাক্তন কাউন্সিলর সেলিম রেজা, বিল্লাল হোসেন ও তৃণমূল নেতা ইলিয়াস কাঞ্চনকে। নওদার তৃণমূল নেতা সঞ্জয় বলেন, “দলে আমি কোণঠাসা। একপ্রকার বাধ্য হয়েই বিজেপিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।” তবে বিজেপির সৌমেন মণ্ডল বলেন, ‘‘বিজেপি করতে গেলে বুথ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেই করতে হবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)