রানাঘাটের সেন্ট্রাল রেলগেট, অর্থাৎ ৫৬ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় রেলের জমিতে গড়ে ওঠা দোকানগুলিতে উচ্ছেদের নোটিস জারির প্রায় এক মাস পরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। সম্প্রতি রেলের তরফে দোকানগুলিতে লাল রঙে কাটা চিহ্ন এঁকে দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকেই জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে এলাকার প্রায় শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর।
বহু বছর ধরে সেন্ট্রাল রেলগেট সংলগ্ন রেলের জমিতে ছোট-ছোট দোকান করে সংসার চালিয়ে আসছে বহু পরিবার। চায়ের দোকান, সেলাইয়ের কাজ, সেলুন-সহ বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা মূলত এই দোকানগুলির আয়ের উপরে নির্ভরশীল। মাসখানেক আগে রেলের তরফে প্রথম উচ্ছেদের নোটিস পৌঁছয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থার আশ্বাস ছাড়াই উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এলাকার এক ব্যবসায়ী শম্ভু কর্মকার বলেন, “প্রায় পঁচিশ বছর ধরে দোকান চালাচ্ছি। পরিবারে আমিই একমাত্র উপার্জনকারী। বাড়িতে অসুস্থ মা ও স্ত্রীর চিকিৎসা চলছে। দোকান উঠে গেলে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।”
আর এক ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ পালের কথায়, “প্রতিদিন সকালে এসে দোকানটা অক্ষত অবস্থায় দেখতে পাব কি না, সেই আতঙ্কে থাকি। এই দোকানের আয়েই আমাদের সংসার চলে। দোকান ভেঙে দিলে পথে বসতে হবে।”
ওই সকল ব্যবসায়ীর দাবি, রেলের উন্নয়নে তাঁদের আপত্তি নেই। তবে উচ্ছেদের আগে তাঁদের জন্য বিকল্প জায়গা বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।
শনিবার রেলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কবে উচ্ছেদ কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট দিন জানানো হয়নি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)