জম্মু-কাশ্মীরের শোপিয়ানে লশকর-এ-ত্যায়বার দুই জঙ্গিকে ধরতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে সেনা এবং পুলিশের যৌথবাহিনী। পুলিশ সূত্রে খবর, পাহাড়ের ঘন জঙ্গলে দুই জঙ্গি আশ্রয় নিয়েছে। জঙ্গিরা যাতে পালাতে না পারে, তাই চার দিক থেকে জঙ্গল ঘিরে ফেলে তাদের কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তল্লাশি অভিযানের সময় দু’পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াইও হয়। তবে জঙ্গিদের দ্রুত ধরা হবে বলে সেনা সূত্রে দাবি। জানা গিয়েছে, স্থানীয় দুই জঙ্গি হল লতিফ এবং জ়াকির। পুলিশ জানিয়েছে, লশকরের ওই দুই জঙ্গি লতিফ এবং জ়াকির দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগামের বাসিন্দা। সন্দেহ, ২০২৪ সালে লশকর জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয় জ়াকির। আর লতিফ গত বছরে ওই জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েছে। শোপিয়ানের একটি বাগানে লাগানো সিসিটিভি-তে প্রথম এই দুই সন্দেহভাজন জঙ্গির ছবি দেখা যায়।
সেনা সূত্রে খবর, শুক্রবার থেকে এই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। মিমান্দার এলাকায় দুই সন্দেহভাজনকে দেখে স্থানীয়েরা পুলিশকে খবর দেন। সেই খবর পাওয়ামাত্রই সেনা এবং পুলিশের যৌথবাহিনী ওই এলাকায় পৌঁছে অভিযানে নামে। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু হয়। শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে মিমান্দারের চারটি গ্রামে তল্লাশি চালায় যৌথবাহিনী। নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করা হয় ওই গ্রামগুলিতে। মিমান্দারের অন্তর্গত মোট সাতটি গ্রাম রয়েছে। বাকি তিনটি গ্রামেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, পাহাড়ি জঙ্গলেও জঙ্গিদের খোঁজ চলছে।
সেনা সূত্রে খবর, জঙ্গিরা মিমান্দার সংলগ্ন জঙ্গলের দিকে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সেই জঙ্গল ঘিরে ফেলা হয়েছে। তল্লাশি অভিযানের সময় জঙ্গিরা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পাল্টা জবাব দেয় বাহিনীও। শুক্রবার থেকেই দুই জঙ্গিকে ধরতে অভিযান শুরু হয়। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গিদের গোপন ডেরা রয়েছে ওই জঙ্গলে। সেই ডেরায় আশ্রয় নিয়েছে জঙ্গিরা। শনিবার রাতেও গুলির লড়াই চলে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে সেনার বিশেষ বাহিনী ‘ভিক্টর ফোর্স’। জঙ্গলের আশপাশে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে জঙ্গল ঘন হওয়ায় জঙ্গিদের ধরতে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি ‘ব্লাইন্ড স্পট’ও রয়েছে। ঘন জঙ্গল হওয়ায় ওই সব এলাকা সহজে দেখা যায় না। এই ধরনের জায়গাকেই ‘ব্লাইন্ড স্পট’ বলা হয়। সেই ‘ব্লাইন্ড স্পট’-এর সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা বার বার জায়গা বদলাচ্ছে।
ঐতিহাসিক ভাবে শোপিয়ান দক্ষিণ কাশ্মীরকে মধ্য কাশ্মীর এবং পির পাঞ্জাল পর্বতমালার সঙ্গে যুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতপথ হিসেবে পরিচিত। গ্রীষ্মকালে ঘন জঙ্গলের কারণে এই এলাকা প্রাকৃতিক আড়াল পেয়ে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জঙ্গিরা প্রায়ই সেনা ও নিরাপত্তাবাহিনীর ঘেরাও করে তল্লাশি (কর্ডন অ্যান্ড সার্চ) অভিযান এড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করে।
সেনা সূত্রে খবর, পাকিস্তানের প্রশিক্ষণ ও মদতপুষ্ট বিদেশি জঙ্গিদের সাম্প্রতিক সময়ে হামলায় বেশি ব্যবহার করা হলেও, লতিফ ও জ়াকিরের মতো স্থানীয় জঙ্গিদের দমন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এতে জঙ্গিদের রসদ ও সহযোগিতা-সংক্রান্ত নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং স্থানীয় যুবকদের জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগের চক্রে বাধা দেওয়া সম্ভব।