মানুষ নয়, ছাগল নিয়ে যাওয়ার কথা বলেই গাড়ি ডেকেছিলেন তারক।
বর্ষা খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া গাড়ির চালককে জেরা করে এই কথাই জানতে পেরেছে পুলিশ। ‘‘ভাইপো, গাড়ি নিয়ে এস। ভাড়া আছে। এক জনকে বাড়ি পৌঁছে দিতে হবে।’’— এ ভাবেই সে দিন ডেকেছিল তারক। জেরায় ওই গাড়ির চালক জানিয়েছেন এই কথা। সে আরও বলে, সেই দিন এলাকায় মনসা পুজোর মেলা থাকায় ভাড়ার কথা কার্যত ভুলে গিয়েছিল বছর সতেরোর রাকেশ। গাড়ি আসছে না দেখে কিছুক্ষণ পর তারক আবার ফোন করে। তবে এ বার সে রাকেশের বাবাকে ফোন করে বলেন, ‘‘দাদা, ভাইপোকে পাঠিয়ে দিন। চারটে ছাগল মরে গিয়েছে। ফেলে দিয়ে আসতে হবে।’’
বাবার কাছ থেকে এ কথা শোনার পরে রাকেশ জানায়, ভাড়া বাবদ চারশো টাকা লাগবে। তাতে রাজিও হয়ে যায় তারক। কিছু সময়ের মধ্যেই রাকেশ গাড়ি নিয়ে মথুগাছিতে চলে আসে। প্রশ্ন উঠছে, তারক গাড়ির চালক এবং বাবা— দু’জনকে দুই রকমের কথা বলেছিল কেন? এর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে রাকেশকে যখন ডাকা হয়, তখনও পর্যন্ত বর্ষাকে মারা হয়নি। মেয়েটি মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে তারক তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য গাড়ি ডেকেছিলেন। কিন্তু বর্ষা পরে ঝামেলা শুরু করলে তারক তাকে গলা টিপে খুন করে। সেই কারণেই পরে গাড়িচালকের বাবাকে ফোন করে তারক মানুষের কথা না বলে চারটে ছাগল মারা যাওয়ার বাহানা দেন।
জেরায় ধৃত ওই গাড়িচালক আরও জানিয়েছেন যে, রাকেশকে বস্তা দেখিয়ে তারক বলে, ওর মধ্যে ছাগল রয়েছে। এর পর তাঁরা দু’জনে মিলে বস্তাটি গাড়িতে তোলে। গাড়ি চালিয়ে বেশ খানিকটা দূরে গিয়ে ধনিচায় পুকুরের মধ্যে বস্তা ফেলে দেওয়া হয়। এর পর দু’জনেই বাড়ি চলে যায়।