Advertisement
E-Paper

স্বাধীনতা দিবসে নীলরতনের প্রত্যাবর্তন

তৃণমূলের অন্দরের খবর, দলনেত্রীর নির্দেশে পুরনো কর্মীদের সক্রিয় করার চেষ্টা শুরু হয়েছে।

বিদ্যুৎ মৈত্র

শেষ আপডেট: ১৭ অগস্ট ২০২০ ০২:০৮
মঞ্চে নীলরতন (বাঁদিকে)। নিজস্ব চিত্র

মঞ্চে নীলরতন (বাঁদিকে)। নিজস্ব চিত্র

দলীয় পতাকার ছায়ায় ফিরে আসার জন্য যে দিনটা বেছে নিয়েছিলেন তিনি ঘটনাচক্রে সেটি ১৫ অগস্ট, স্বাধীনতা দিবস। গত দেড় বছরে দলের কোনও অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা যায়নি। ফোন করলে উত্তর আসত ‘অসুস্থ, বাইরে আছি’। অনেক সময় অভিমান করে বলতেন, ‘‘দলের কোনও কর্মসূচি তো আমায় জানানো হয় না।’’ দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির পাশাপাশি হাল আমলের মুর্শিদাবাদ জেলার অধিকাংশ ক্ষমতাসীন দলীয় পদাধিকারীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যে বেশ ‘মধুর’ হয়ে উঠছিল, তাঁর বিরুদ্ধে ছাপোষা দুর্নীতির মামলা, প্রকাশ্যে নিন্দামন্দ, এমনকি, তাঁর বাড়িতে হামলার অভিযোগেও তা ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। এমনকি, সেই সময় দলের জেলা সভাপতি আবু তাহের খানকেও বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘‘নীলরতন আঢ্য সম্পর্কে আমাদের কোনও আগ্রহ নেই।’’

সেই নীলরতনই ফের ফিরে এলেন দলীয় পতাকার ছায়ায়। ১৫ অগস্ট তাঁর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন আরেক হারিয়ে যাওয়া মুখ সৌমিক হোসেন। তৃণমূলের অন্দরের খবর, দলনেত্রীর নির্দেশে পুরনো কর্মীদের সক্রিয় করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। তার জেরেই ফের তৃণমূলে সক্রিয় হচ্ছেন বহরমপুরের প্রাক্তন পুরপ্রধান নীলরতন। যাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়েও অধিক পরিচিতি পুরপ্রশাসক হিসেবে। একদা অধীর চৌধুরীর বিশ্বস্ত নীলরতন ২০১৬ সালে দলের ১৬ জন কাউন্সিলর নিয়ে কলকাতায় গিয়ে অভিষেকক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন। এক জেলা নেতার কথায়, ‘‘সেই সময় মুর্শিদাবাদে শুবেন্দু অধিকারীর দাপট ছিল। শুভেন্দু-অভিষেক চাপা রেষারেষির ফলই এতদিন ভুগতে হচ্ছিল নীলুদাকে।’’ জেলা পর্যবেক্ষকের পদ থেকে শুভেন্দুর ‘অপসারণের’ পর নতুন করে অভিষেক-উদয়ের ছায়া ছড়িয়েছে। তার সূত্র ধরেই জেলায় কোণঠাসা অভিষেকপন্থীরা ক্রমেই আবার সবল হচ্ছেন। নীলরতনের কথায়, ‘‘সৌমিক ডাকায় না এসে থাকতে পারলাম না। ও-ই তো এতদিন যোগাযোগ রাখত।’’ পাল্টা সৌমিকও বলছেন, ‘‘নীলুদা মঞ্চে থাকায় ভিড় দেখলেন। এমন নেতাকেই তো দলে চাই।’’ বহরমপুরের বেশ কিছু ওয়ার্ডে পতাকা উত্তোলনের সময় তাঁর পাশে দেখা গিয়েছে দলের সদ্য নির্বাচিত কো অর্ডিনেটর অরিত মজুমদারকেও। নতুন সমীকরণে নীলরতন দলে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার সেটাও বড় প্রমাণ বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতারা।

Nilratan Auddy TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy