×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৮ মে ২০২১ ই-পেপার

ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে জেলা জুড়েই

সামসুদ্দিন বিশ্বাস
বহরমপুর ০৫ নভেম্বর ২০১৮ ০৫:০৯
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

সচেতনতা ও প্রচার কোনও কিছুই কাজে এল না।

মুর্শিদাবাদ জেলায় ২০১৭ সালে যত জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছিলেন, সেই রোগীর সংখ্যা এ বছরের অক্টোবরেই ছাপিয়ে গেল! গত বছর অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৭১১ জন। ২০১৮ সালের অক্টোবরে সেই সংখ্যা পৌঁছেছে ৭৬১ জনে। তবে সরকারি হিসেব মতে, ২০১৭-১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্ত কোনও রোগীর মৃত্যু হয়নি।

কিন্তু ডেঙ্গি রুখতে বর্ষার অনেক আগে থেকেই কোমর বেঁধে নেমেছিল জেলাপ্রশাসন। প্রশাসন-স্বাস্থ্য দফতর একযোগে কাজ করলেও ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণ যে হয়নি, তা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যার হিসেব-ই বলছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, প্রচারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পরেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে কেন? স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তার দাবি, ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬ হাজার ২১০ জনের এলাইজা পরীক্ষা হয়েছিল। এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত সেই সংখ্যা ৯ হাজার ৭০২ জন। সচেতনতার কারণেই গত বছরের তুলনায় জ্বরে আক্রান্তরা সরকারি হাসপাতালের দ্বারস্থ হয়েছেন। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর এলাইজা পরীক্ষা বেশি হয়েছে। এ বছর তাই আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে।

Advertisement

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছর সেপ্টেম্বরে আক্রান্তের সংখ্যা সব থেকে বেশি ছিল। ওই মাসে জেলায় ২৭৬ জন ডেঙ্গি আক্রান্তের খোঁজ মেলে। গত জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৩৩ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হন। জুলাই থেকে সেই সংখ্যা বাড়তে থাকে। জুলাইয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৪ জন, অগস্টে ১৫৯ জন, সেপ্টেম্বরে ২৭৬ জন এবং অক্টোবর মাসে ২৩৪ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পাওয়া গিয়েছে। তবে ডেঙ্গিতে এই জেলায় এখন পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর নেই। তবে গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ জেলায় ১১৯৪ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই বছর ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছিল তিন জনের।

বিরোধীরা অবশ্য এ নিয়ে সরব। জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলছেন, ‘‘ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর ব্যর্থ। সরকার ডেঙ্গির তথ্যও গোপন করছে।’’ কংগ্রেসের অভিযোগ উড়িয়ে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন মণ্ডল বলেন, ‘‘কংগ্রেসের অভিযোগ ভিত্তিহীন। স্বাস্থ্য দফতর, সাধারণ প্রশাসন ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। যার ফলে আমাদের জেলায় ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’’

Advertisement