Advertisement
E-Paper

ভেজাল চিপস, ধৃত এক নবদ্বীপে

পুলিশের দাবি, জেরায় দীপঙ্কর জানিয়েছেন, তিনি প্রায় ছ’বছর ধরে ওই কারবার করছেন। ওই ব্যবসায়ী নামী কোম্পানির মেয়াদ উত্তীর্ণ চিপস কম দামে কিনে সেগুলিকে পুনরায় ভেজে মশলা মিশিয়ে নতুন মোড়কে বিক্রি করতেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ অগস্ট ২০১৭ ০২:১১

জল, তেল, ঘি, কালো জিরে, ধনের পরে এ বার ভেজাল চিপস।

পুলিশ সূত্রে খবর, নবদ্বীপের ব্যস্ত স্টেশন রোড এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরেই চানাচুর কারখানার আড়ালে এই ভেজাল কারবার চলছিল। বুধবার দুপুরে সেখানে হানা দেয় পুলিশ। বাজেয়াপ্ত হয় কয়েক কুইন্টাল মেয়াদ উত্তীর্ণ বাতিল চিপস এবং কয়েক টন প্যাকেট করা ভেজাল চিপস। পুলিশ ওই কারখানার মালিক দীপঙ্কর সাহাকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশের দাবি, জেরায় দীপঙ্কর জানিয়েছেন, তিনি প্রায় ছ’বছর ধরে ওই কারবার করছেন। ওই ব্যবসায়ী নামী কোম্পানির মেয়াদ উত্তীর্ণ চিপস কম দামে কিনে সেগুলিকে পুনরায় ভেজে মশলা মিশিয়ে নতুন মোড়কে বিক্রি করতেন। নবদ্বীপ, শান্তিপুর, রানাঘাট, কৃষ্ণনগর-সহ নদিয়ার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পাশের বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদের বিরাট এলাকা জুড়ে তিনি ওই ভেজাল চিপস পাঠাতেন।

নবদ্বীপে দীপঙ্করদের পারিবারিক চানাচুরের ব্যবসা। অভিযোগ সেই ব্যবসাকে সামনে রেখেই, ভিতরে এই ভেজালের কারবার চালাচ্ছিলেন। এ দিন নবদ্বীপ স্টেশন রোডের উপরে তাঁর কারখানায় গিয়ে তাজ্জব বনে যান পুলিশের কর্তারা। চারটি ঘরের মেঝে থেকে সিলিং ঠাসা বাতিল চিপসের বস্তা।

কারখানার এক কর্মী জানিয়েছেন, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওই চিপসের প্যাকেট খুলে সেগুলি ফের ভেজে নতুন করে মশলা এবং প্রচুর পরিমাণে শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো মিশিয়ে প্যাকেটে ভরে বাজারে বিক্রি করা হতো। দীপঙ্কর অবশ্য জানিয়েছেন, ‘‘আমরা লাইসেন্স নিয়ে ছ’বছর ধরে এই কাজ করছি। চিপসকে আরও মুখরোচক করার জন্য কিছু মশলা মেশানো হতো।” যদিও পুলিশ জানিয়েছে, দীপঙ্করের কাছে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ফুড প্রসেসিং বা অন্য কোনও লাইসেন্স পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে ছুটে আসেন নবদ্বীপের পুরপ্রধান বিমানকৃষ্ণ সাহাও। তিনি বলেন, “অন্য কারখানার ফেলে দেওয়া বাতিল খাবার যা পশুখাদ্য হিসাবেও উপযুক্ত নয় তা দিয়ে এই ধরনের ভেজাল খাবার তৈরি অত্যন্ত অপরাধ। পুলিশের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” নবদ্বীপের আইসি সুবীরকুমার পাল বলেন, ‘‘কারখানা মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তও শুরু হয়েছে।”

তবে স্থানীয় মানুষের প্রশ্ন, খোদ কারখানা মালিক যেখানে নিজে মুখে বলছেন ছ’বছর ধরে এই কারবার চলছে, সেখানে লরিবোঝাই বস্তা বস্তা বাতিল চিপস নিয়মিত শহরে ঢুকেছে, বেরিয়েছে। কারখানা ফেঁদে ভেজাল খাবার তৈরি এবং কেনাবেচা চলছে। এত বড় একটা কাণ্ড সকলের নজর এড়িয়ে গেল কী ভাবে?

Adulterated chips Arrest
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy