Advertisement
E-Paper

লালবাগে নেতা খুনে জট কাটেনি

গত রবিবার থেকে নিখোঁজ থাকার পরে মঙ্গলবার সকালে লালবাগের হোটেলের একটি বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হয় রাধারঘাট-১ পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য কায়েমের দেহ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৭ ০১:২৬
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য কায়েম শেখ খুনের কারণ নিয়ে পুলিশের ধন্দ কাটেনি। এই ঘটনায় ধৃতদের যদিও জেরা করে তা জানা সম্ভব হবে বলে মনে করছে পুলিশ।

এই ঘটনায় ধৃত রাজু শেখকে বুধবার চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল লালবাগ আদালত। এই ঘটনায় ধৃত রাজুর সৎ মেয়ে আদুরি খাতুনকে চার দিনের জেল হেফাজতে পাঠান বিচারক।

গত রবিবার থেকে নিখোঁজ থাকার পরে মঙ্গলবার সকালে লালবাগের হোটেলের একটি বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হয় রাধারঘাট-১ পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য কায়েমের দেহ। রাজুই তার এক আত্মীয়ের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার নাম করে কায়েমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। তাদের সঙ্গে ছিল আদুরিও। কায়েমের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বহরমপুর থানার পুলিশ সোমবার রাতে ইসলামপুর থেকে রাজু এবং আদুরিকে গ্রেফতার করেছিল। তাদের জেরা করেই কায়েমে মৃতদেহের সন্ধান মেলে। রাজু কবুল করে কায়েমকে সেই খুন করেছে।

কায়েম শেখের ভাই আয়ুব শেখ জানান, পড়শি হওয়ার সুবাদে রাজু শেখের পরিবারের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের খুব ভাল সম্পর্ক। কয়েক দিন আগে রাজু শেখের স্ত্রী নাজা বিবির দিদির মেয়ের বিয়ে হয় বহরমপুরের তারকপুরে। অষ্টমঙ্গলায় মেয়ে ও জামাইকে নিয়ে আসার জন্য রবিবার রাজু শেখ তাঁর দাদাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। একটি গাড়িতে করে রাজু, কায়েম এবং আদুরি একটি গাড়িতে করে রওনা হয়।

কিন্তু তারকপুর না গিয়ে তারা লালবাগ কেন গেলেন, তার কোনও ব্যখ্যা পুলিশ পায়নি। আয়ুব জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় কায়েম সাড়ে তিন লক্ষ টাকা সঙ্গে করে নিয়ে যান। সেই টাকা তিনি কেন নিয়েছিলেন, তারও কোনও ব্যাখ্যা নেই আমাদের কাছে। তাঁর অভিযোগ, কায়েমকে ব্যবসার টোপ দিয়ে খুন করে রাজু সেই টাকা লোপাট করেছে।

রাজু দাবি করেছে, কায়েমের সঙ্গে তার সৎ মেয়ে আদুরির ‘সম্পর্ক’ তৈরি হয়েছিল। তা সে মেনে নিতে পারেনি। সেই জন্যই তাকে সরানোর পরিকল্পনা করে সে। আদুরিকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করেই সে কায়েমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল।

রাজু এও দাবি করেছে, তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেছিল কায়েম। ওই টাকা দিতে না পারলে রাজুর বাংলাদেশী পরিচয় সে ফাঁস করে দেবে বলেও হুমকি দিয়েছিল। কায়েম খুনে রাজুর সেই আক্রোশও কাজ করে থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। তবে পুলিশ তার সব কথা বিশ্বাস করছে না। তাকে জেরা করলেই প্রকৃত তথ্য জানা যাবে বলে তারা মনে করছে।

রাজুর অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে কায়েমের পরিবার। কথা বিশ্বাস করতে রাজি নয় ওই পরিবার। আয়ুব শেখের কথায়, ‘‘দাদার নিজের বিড়ির ব্যবসা। চালু মনোহারি দোকানও রয়েছে। সামান্য গাড়ির চালক রাজু শেখের কাছে দাদা কেন টাকা চাইতে যাবে? আর গত ১০-১২ বছর ধরে রাজু শেখ বাজারপাড়ায় যাতায়াত করে। দাদা বাংলাদেশী পরিচয় অনেক আগেই তো পুলিশের কাছে জানাতে পারত। এখন নিজেকে বাঁচাতে রাজু মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।’’ তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের খুনের ঘটনায় হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রবিবার দুপুরে হোটেলের ঘরে তিন জন মিলে ঢোকার কয়েক ঘন্টার মধ্যে বাইরের দিক থেকে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দুজন বেরিয়ে গেল। কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ কেন তা জানতে পারল না তা পরিষ্কার নয়।

মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার মুকেশ কুমার জানান, ঘটনার পরেই হোটেলের ম্যানেজার ও কর্মীরা পালিয়ে যায়। তাদের খোঁজ চলছে। তবে গোটা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।

murder লালবাগ Lal Bagh
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy