কার মরদেহ আগে দাহ করা হবে, তা-ই নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা। সেখান থেকে মারামারিতে জড়ালেন দুই পক্ষের শ্মশানযাত্রীরা। তুচ্ছ বিবাদে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মুর্শিদাবাদের ডোমকলের একটি শ্মশানচত্বর। রড, লাঠির ঘায়ে প্রাণ গিয়েছে জয়ন্ত ঘোষ নামে বছর ত্রিশের এক যুবকের।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার রাতে ডোমকলের চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা রবিন দাস বৈরাগ্যের মৃত্যু হয়। তাঁর দেহ সৎকারের জন্য শ্মশানে গিয়েছিলেন জয়ন্ত এবং আরও কয়েক জন। সেই সময়ে কলাবেড়িয়া গ্রামের এক ব্যক্তির মরদেহ নিয়ে তাঁর পরিজনেরাও শ্মশানে পৌঁছোন। আগে কার দেহ পোড়ানো হবে, তা-ই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা বাধে। শেষমেশ বিবাদ মেটে। সিদ্ধান্ত হয় কলাবেড়িয়ার মৃতের সৎকার আগে হবে। পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে ভেবে জয়ন্ত এবং তাঁর সঙ্গীরা শ্মশানের কাছে একটি দোকানে চা খেতে যান। অভিযোগ, সেই সময় হঠাৎই বাঁশ, লোহার রড নিয়ে তাঁদের উপর চড়াও হন কয়েক জন। মারের চোটে জয়ন্ত ছাড়াও রক্তাক্ত হন প্রান্তিক ঘোষ এবং চিরঞ্জিত ঘোষ নামে দুই যুবক।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিন জনকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জয়ন্তকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। হামলায় হাত ভেঙেছে প্রান্তিকের। অল্প জখম প্রান্তিককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে হাসপাতাল থেকে। তবে ওই মারধরের ঘটনায় রবিবার দুপুরে অভিযুক্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
মৃতের মামা পিন্টু ঘোষ বলেন, ‘‘জয়ন্ত ভীষণ পরোপকারী ছেলে বলে পরিচিত। যে কারও বিপদে সবার আগে ছুটে যেত ও। শ্মশানে একটি বিবাদ হয়েছিল। সেটা মিটে যাওয়ার পরেও কেন ওকে এ ভাবে মরতে হল, কেউই বুঝতে পারছি না। ঠিক কী হয়েছিল, জানতে চাই। দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই আমরা।”
মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার মাজিদ ইকবাল বলেন, ‘‘একটি খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃত তিন জনকে সোমবার আদালতে হাজির করানো হবে।’’