Advertisement
২৬ নভেম্বর ২০২২
দল বদলে ভোল বদল

সব আব্দারেই ‘হ্যাঁ’ বলছে প্রশাসন

দলবদলে ভোলবদল! এ ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়, মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস নেতারা বলছেন— টানা ছ’বছর ধরে প্রশাসনের দরজায় মরা কান্না কেঁদেও যে বরাদ্দ ডুমুরের ফল হয়েছিল, দল বদলের পরে সেই জনপ্রতিনিধিদের যে কোনও আব্দারেই এখন প্রশাসন মিষ্টি করে সম্মতিসূচক ঘাড় নাড়ছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা
বহরমপুর শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০১৬ ০২:২৪
Share: Save:

দলবদলে ভোলবদল!

Advertisement

এ ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়, মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস নেতারা বলছেন— টানা ছ’বছর ধরে প্রশাসনের দরজায় মরা কান্না কেঁদেও যে বরাদ্দ ডুমুরের ফল হয়েছিল, দল বদলের পরে সেই জনপ্রতিনিধিদের যে কোনও আব্দারেই এখন প্রশাসন মিষ্টি করে সম্মতিসূচক ঘাড় নাড়ছে।

বহরমপুর পুরসভার কথাই ধরা যাক— বিরোধী আসনে বসে থাকা যে কাউন্সিলরদের সঙ্গে এত দিন দেখা করার সময়ই পাননি জেলাশাসক, দল বদলে তাঁরাই তৃণমূলে পা বাড়ানোর পরে, সোমবার তাঁদের সাদরে নিজের দফতরে ডেকে নিয়েছেন জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও। বলছেন, ‘‘কী দরকার খোলা মনে বলুন না!’’

সেই তালিকায়, শহরের পুরনো কান্দি বাসস্ট্যান্ড সংস্কার থেকে চুঁয়াপুরে উড়ালপুল, ফুটপাথ তৈরি, রাস্তা সংস্কার, পথ আলো, সবই প্রশাসনের ছাড় পেয়ে গিয়েছে। যা দেখে, সদ্য দল বদল করা কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরই বলছেন, ‘‘বাব্বা, ক্ষমতায় থাকা আর না- থাকার ফারাকটা স্পষ্ট হল এত দিনে!’’ এ দিনের বৈঠকে জেলাশাসকের সঙ্গে ছিলেন, বহরমপুর মহকুমাশাসক দিব্যনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়, পুরপ্রধান নীলরতন আঢ্য। নীলরতনবাবু বলছেন, ‘‘এ দিনের উন্নয়নের বৈঠক আগের থেকে অনেক বেশি ফলপ্রদ ও কার্যকরী হয়েছে, এটুকু বলতে পারি।’’ কেন হল? স্মিত হাসি ছাড়া তাঁর মুখে কোনও উত্তর ছিল না।

Advertisement

জেলাশাসক অবশ্য এমন কোনও পক্ষপাতিত্বের কথা মানতে চাননি। তিনি বলেন, ‘‘নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে উড়ালপুল নির্মাণের কাজ শুরু হবে। পুরনো কান্দি বাসস্ট্যান্ডের কাজি নজরুল ইসলাম সরণিতে ফুটপাত তৈরিও করা হবে। দোকানদারদের পুনর্বাসন দেওয়াও হবে। তার জন্য রাজ্য সরকার ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দও করেছে।’’ আগে করলেন না কেন?

কেনই বা শহরের অদূরে আড়াই কোটি টাকার প্রস্তাবিত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ প্রকল্পটিও প্রাণ পেল রাতারাতি? পাল্টা প্রশ্নে জেলাশাসক জানতে চান, ‘‘উন্নয়ন হলে আপত্তি কোথায়!’’

এ সবের সঙ্গেই রয়েছে, বহরমপুর শহরের নান জায়গায় জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কারের পরিকল্পনার মতো নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যাপারও। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রশাসনের ‘অসহযোগিতায়’ যা ছিল অনিয়মিত।

পুরপ্রধান বলেন, ‘‘শহরকে জঞ্জাল মুক্ত রাখতে দু’বেলা পরিষ্কার করা হবে পথঘাট। চুঁয়াপুরে উড়ালপুল নির্মাণের জন্যে রেলগেটের দু’দিকে পুরসভা ও পঞ্চায়েতের এলাকা মিলিয়ে রাস্তা দখল করে গড়ে ওঠা প্রায় ২১০টি দোকানও উচ্ছেদ করতে হবে। তবে পুনর্বাসনও হবে।’’

২০১৩ সালে অধীর চৌধুরী রেল প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন চুঁয়াপুর উড়ালপুলের শিলান্যাস করেন। নিয়োগ করা হয় ঠিকাদার সংস্থাও। কিন্তু কাজ শুরু হতেই তৃণমূলের সমর্থকেরা তা বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ। টাউন কংগ্রেস সভাপতি অতীশ সিংহ বলেন, ‘‘কিরাজ্য সরকারের পূর্ত দফতরের কাছ থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিকেট’ না পাওয়ায় কাজ শুরু করা যায়নি।’’

এখন অবশ্য সে সব বাধা আর নেই, দল বদলে ভোল বদল!

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.