Advertisement
E-Paper

যানজটের যন্ত্রণায় নাকাল বেলডাঙা

বেলডাঙা রবীন্দ্রমূর্তি থেকে হরিমতি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দূরত্ব বড়জোর এক কিলোমিটারেরও কম। অথচ সকাল ও বিকেল মিলিয়ে প্রায় ঘণ্টা চারেক সেই রাস্তায় যানজটের কারণে পথ চলাই দায় হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সকাল ও বিকেলে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে অফিস যাত্রীদের ভিড় থাকে। সেই সময় ওই রাস্তা দিয়ে পায়ে হাঁটা তো দূরের কথা, সাইকেল কিংবা রিকশায় ওই সামান্য রাস্তাটুকু পার হতে সময় লাগে প্রায় আধঘণ্টা!

সেবাব্রত মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২২ মে ২০১৫ ০০:৪২
আটকে পড়েছে অ্যাম্বুল্যান্সও। বেলডাঙায় গৌতম প্রামাণিকের তোলা ছবি।

আটকে পড়েছে অ্যাম্বুল্যান্সও। বেলডাঙায় গৌতম প্রামাণিকের তোলা ছবি।

বেলডাঙা রবীন্দ্রমূর্তি থেকে হরিমতি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দূরত্ব বড়জোর এক কিলোমিটারেরও কম। অথচ সকাল ও বিকেল মিলিয়ে প্রায় ঘণ্টা চারেক সেই রাস্তায় যানজটের কারণে পথ চলাই দায় হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সকাল ও বিকেলে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে অফিস যাত্রীদের ভিড় থাকে। সেই সময় ওই রাস্তা দিয়ে পায়ে হাঁটা তো দূরের কথা, সাইকেল কিংবা রিকশায় ওই সামান্য রাস্তাটুকু পার হতে সময় লাগে প্রায় আধঘণ্টা! প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও সমস্যার কোনও সুরাহা হয়নি।

শুধু এই রাস্তাতেই নয়, বেলডাঙা স্টেশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে রেলের ওভারব্রিজ পেরিয়ে ক্ষুদিরাম মূর্তির দিকে যাওয়ার রাস্তাতেও যানজট নিত্যদিনের চেনা ছবি। অভিযোগ, এমনিতেই এই রাস্তাটি অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ। তাছাড়া রাস্তার দু’পাশে কোনও পুরবিধি না মেনে বেআইনি ভাবে তৈরি হয়েছে অসংখ্য দোকান। তার সামনে আবার ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকে অজস্র রিকশা ও টোটো। ফলে পথচারীদের হাঁটার কোনও পথ নেই।

সবথেকে যানজটে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয় পাঁচরাহা রেলগেটে। প্রতিদিন পাঁচরাহার ওই রেলগেট দিয়ে ১৬ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। দিনের মধ্যে বহু বার বন্ধ রাখতে হয় ওই রেলগেট। ফি মঙ্গলবার বেলডাঙায় বসে পোশাক ও পশুহাট। গেট বন্ধ হয়ে গেলে সাইকেল, মোটরবাইক, বাস, লরি, রিকশার ভিড়ে জনবহুল ওই এলাকায় এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়। সব সময় ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটে। প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজমনীতির লোকজনও সে কথা জানেন। অথচ এখনও পর্যন্ত সেই যানজটের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পায়নি বেলডাঙা শহর।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেলডাঙা শহরে আগের থেকে জনসংখ্যা অনেক বেড়েছে। বেড়েছে যানবাহনের সংখ্যাও। কিন্তু সেই অনুপাতে শহরের রাস্তাঘাট বা অন্যান্য পরিকাঠামোর কোনও পরিবর্তন হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা আরও সঙ্কীর্ণ হয়েছে। বেলডাঙা সিআরজিএস হাইস্কুলের শিক্ষক প্রদীপ্তকান্তি রায় জানান, বেলডাঙায় যানজট তো বহু দিনের সমস্যা। কিন্তু সেই সমস্যা সমাধানের কোনও চেষ্টাই নেই প্রশাসনের। স্কুল ও অফিসের সময়ে প্রশাসন যদি ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা করলেও যানজট কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসে।

বেশ কয়েকমাস আগে যখন বেলডাঙা শহরে টোটো চালু হল তখন অনেকেই এই শব্দবিহীন যানকে মুশকিল আসান বলে মনে করেছিলেন। ভেবেছিলেন, রিকশার থেকে এই যান সবদিক থেকেই ভাল হবে। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই ছবিটা বদলে গেল। এখন যানজট আরও বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসাবে শহরের বাসিন্দাদের একাংশ টোটোকেও দায়ী করছেন। কেন? স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, রিকশার থেকে টোটোতে ভাড়া অনেক কম। যাতায়াতে সময়ও কম লাগে। কিন্তু এই অল্প সময়ে শহরের টোটোর সংখ্যা হু হু করে বেড়েছে। রাস্তার মোড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় টোটোর দাপটে যানজট আরও বেড়েছে বই কমেনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী বলরাম বিশ্বাস বলেন, ‘‘এমন অনেকেই টোটো চালাচ্ছেন যাঁদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সেই অর্থে কোনও ধারণা নেই। রাস্তাঘাটে যানজট বাড়ার ক্ষেত্রেও সেটাও একটা কারণ বইকি। প্রশাসনের উচিত এই বিষয়টিতেও নজর দেওয়া।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘এই যানজটের কারণে প্রভাব পড়ছে ব্যবসাতেও। বাইরের লরি শহরে ঢুকতে চাইছে না। এই ভিড় ঠেলে বাজারে আসার ঝক্কি থেকে রেহাই পেতে অনেকেই স্থানীয় বাজারগুলিতে ঝুঁকছেন।’’ বেলডাঙার এক ছাপাখানার মালিক হজরত শেখ বলেন, ‘‘এই শহরে গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। সেই কারণে যানজটের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনাও।’’

স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল থেকে শুরু করে বেলডাঙায় রয়েছে নানা সরকারি অফিস। কাজের সুবাদে বহু মানুষ দৈনিক এই শহরে আসেন। বেলডাঙার একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা রত্না দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘যে কোনও শহরের রাস্তাঘাট সেই শহরের বড় পরিচয়ও বটে। অথচ বেলডাঙায় বহু মানুষ এসে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। তার অন্যতম কারণ কিন্তু যানজট।’’ রত্নাদেবী মনে করেন, বিপুল টাকা খরচ না করে ন্যূনতম শৃঙ্খলা মেনে চললেও প্রাথমিক ভাবে এই যানজট কমানো সম্ভব। সেক্ষেত্রে সকলকেই সচেতন হতে হবে। আর সেই সচেতনতা বাড়ানোর কাজটা কিন্তু প্রশাসনেরই করা উচিত।

বেলডাঙা শহরের মানুষ মনে করেন পাঁচরাহা এলাকায় একটি আন্ডারপাস হয়ে গেলে যানজট অনেকটাই কমবে। গত লোকসভা ভোটের আগে বহরমপুরের সাংসদ তথা রেলের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী অধীর চৌধুরী পাঁচরাহা রেলগেটে একটি আন্ডারপাস তৈরি করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই কাজের কিছুই এগোয়নি।

বেলডাঙার ওসি অরূপ রায় বলেন, ‘‘সকাল দশটা ও বিকেল চারটে নাগাদ শহরের বেশ কিছু এলাকায় যানজট তৈরি হয়। সেই জায়গাগুলিকে চিহ্নিত করে যানজট রুখতে আমরা সেখানে পুলিশকর্মীও মোতায়েন করছি।’’ বেলডাঙার ১ বিডিও শুভ্রাংশু মণ্ডল বলেন, ‘‘প্রশাসন ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতিগুলিকে নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। বেশ কিছু সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্র ফের একটি বৈঠক ডাকা হবে।’’ তবে শহরের মানুষ মনে করেন, যানজট রুখতে ঘরে বসে বৈঠক করে কিছু হবে না। শহরের রাস্তাঘাট নতুন করে সংস্কার না করলে যানজট তো বটেই, অন্য সমস্যাও বাড়তে থাকবে।

sebabrata mukhopadhyay Beldanga road jam hospital school
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy