Advertisement
E-Paper

দুই স্ত্রীর বিবাদ, খুন হল শিশু

ফরাক্কার আইসি উদয় শঙ্কর ঘোষ জানান, খুনের অভিযোগে মর্জিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে জেরা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ঘটনার তদন্তও শুরু হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০১:৫৮
—প্রতীকী চিত্র।

—প্রতীকী চিত্র।

মাস চারেকের এক শিশুকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল সৎ মায়ের বিরুদ্ধে। রবিবার সকালে ফরাক্কার দুর্গাপুর লাওয়ারহাট গ্রামের ওই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত মর্জিনা বিবিকে গ্রেফতার করেছে।

ওই শিশুর মা নার্গিস বিবির অভিযোগ, ‘‘মর্জিনা আমার স্বামীর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী। ও আমার ঘর থেকে ঘুমন্ত আয়েষাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলেছে।’’ অভিযোগ মানতে চাননি মর্জিনা। তাঁর পাল্টা দাবি, ‘‘নার্গিসই নিজের মেয়েকে মেরে আমার নামে দোষ দিচ্ছে।’’

ফরাক্কার আইসি উদয় শঙ্কর ঘোষ জানান, খুনের অভিযোগে মর্জিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে জেরা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ঘটনার তদন্তও শুরু হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় রাজমিস্ত্রি শারজাহান শেখ ওরফে গেনি বছর তিনেক আগে বিয়ে করেন নার্গিসকে। গত বছর শারজাহান ফের মর্জিনাকে বিয়ে করেন। তখন নার্গিস অন্তসত্ত্বা। তিনি সে বিয়েতে বিয়েতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এ দিকে শারজাহান দুই স্ত্রীকে নিয়ে নিজের বাড়িতেই থাকতে শুরু করেন। মাস চারেক আগে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন নার্গিস। রাজমিস্ত্রির কাজে শারজাহান বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকেন। গত দু’মাস থেকে তিনি বাইরেই আছেন। এ দিকে একই বাড়িতে দুই স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ-অশান্তি ছিল রোজনামচা। ফলে মাঝেমধ্যেই শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে জিগরি গ্রামে বাবার বাড়িতে চলে যেতেন দ্বিতীয় স্ত্রী মর্জিনা। শুক্রবার সেখান থেকে লাওয়ারহাটে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন তিনি।

মর্জিনা থাকেন দোতলার ঘরে। প্রথম স্ত্রী নার্গিস তাঁর শিশুকে নিয়ে থাকেন নীচের তলায়। শনিবার রাতেও যে যাঁর নিজের ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। নার্গিসের অভিযোগ, রবিবার সকাল হতেই মর্জিনা তাঁর ঘরে আসেন। তখন আয়েষা ঘুমিয়েছিল। মর্জিনা ঘরে থাকতেই নার্গিস যান শৌচাগারে। মিনিট দশেক পরে ফিরে দেখেন, আয়েষা বিছানায় নেই। দোতলায় গিয়ে দেখেন মর্জিনার কোলে রয়েছে তাঁর শিশু। আয়েষাকে কোলে নিতেই নার্গিস দেখেন শিশুটি নড়াচড়া করছে না। নার্গিস তাকে জাগানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু নিথর শিশু সাড়া দেয়নি।

নার্গিস সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির পাশের এক গ্রামীণ চিকিৎসককে খবর দেন। তিনি এসে পরীক্ষা করে জানান, শিশুটি মারা গিয়েছে। নার্গিস চিৎকার শুরু করেন, ‘‘মর্জিনাই আমার মেয়েটাকে মেরে ফেলেছে।’’ তাঁর কান্না শুনে আশপাশের ঘর থেকে ছুটে আসেন লোকজন। তাঁরা শিশুটিকে নিয়ে ছুটে যান বেনিয়াগ্রাম ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখানেও চিকিৎসকেরা শিশুটিকে মৃত বলে জানিয়ে দেন।

পাড়া-পড়শিরা মর্জিনাকে আটকে মারধর শুরু করে। খবর পেয়ে ফরাক্কা থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নার্গিস বিবির অভিযোগের ভিত্তিতে পরে তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়।

Farakka arrest murder Stepmother
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy