নাম এক। রেজিষ্ট্রেশন নম্বর— সেও হুবহু এক। দু’পক্ষের দাবি তারাই নাকি আসল।
এক পক্ষ দেওযালে পোস্টার লাগালে পাল্টা পোস্টার লাগায় অন্যপক্ষও। সাগরদিঘি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের দুই গোষ্ঠীর রেষারেষিতে কুঁকড়ে রয়েছে কর্তৃপক্ষ। দিন কয়েক আগেই এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন দলনেত্রী। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে দলের নামে কোথাও একটির বেশি সংগঠন রাখা যাবে না। তবে, হুঁশিয়ারিই সার। বিন্দুমাত্র হুঁস ফেরেনি শাসক দলের শ্রমিক নেতাদের। আর তাই সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে তৃণমূলের একই নামে জোড়া সংগঠনের রেষারেষি ও দাপাদাপিতে কপালে ভাঁজ পড়েছে ওই কেন্দ্রের কর্তাদের। ক্রমেই বাড়ছে সমস্যা ও উত্তেজনা। পোস্টারে ছেয়ে গেছে প্ল্যান্ট। ব্যহত হচ্ছে কাজের পরিবেশ, জানাচ্ছেন বিদ্যুৎ কর্তারাই। পরিস্থিতি দেখতে ১৪ জুন তৃণমূলের শ্রমিক নেত্রী দোলা সেন আসছেন সাগরদিঘি প্ল্যান্টে। দলের তরফে তাকেই শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এমনিতেই সাগরদিঘিতে ৫০০ মেগাওয়াটের দু’টি ইউনিট চালু হওয়ার কাজ পদে পদে বাধা পেয়েছে শাসক দলেরই ঠিকা শ্রমিকদের জোড়া সংগঠনের বিবাদে। একাধিক ঠিকাদারি সংগঠনের কর্তাকে তোলাবাজির টাকা না দেওয়ায় মারধোর করা হয়েছে, চলেছে গুলিও। পরে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতারের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে ইউনিট দু’টি চালু হয় এক বছর পিছিয়ে। এবার এই কেন্দ্রে ৬৬০ মেগাওয়াটের আরও একটি ইউনিটের কাজ শুরু হচ্ছে। ঠিকা শ্রমিকদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হলেও এ বার তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মচারীদের মধ্যেও শাসক দলের জোড়া সংগঠন নিয়ে রেষারেষি যে ভাবে বাড়ছে তাতে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সাগরদিঘি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্তাদের কপালে।