Advertisement
E-Paper

অধ্যক্ষের অপসারণ চেয়ে চিঠি দিল টিএমসিপি

পরিচালন সমিতি বলেছে, কড়া হাতে সমস্যার মোকাবিলা করছেন তিনি। কিন্তু, শিক্ষকদের একটি অংশ বলছেন, তিনি পরিচালন সমিতিকে উপেক্ষা করেই কলেজ চালাচ্ছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ অগস্ট ২০১৬ ০২:২৯

পরিচালন সমিতি বলেছে, কড়া হাতে সমস্যার মোকাবিলা করছেন তিনি। কিন্তু, শিক্ষকদের একটি অংশ বলছেন, তিনি পরিচালন সমিতিকে উপেক্ষা করেই কলেজ চালাচ্ছেন।

আর তৃণমূল ছাত্র পরিষদের একটি অংশ আবার ২৯ দফা অভিযোগ তুলে শান্তিপুর কলেজের অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করেছে। অধ্যক্ষ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নিজে দাবি করেছেন, নিয়ম মেনেই কাজ করছেন তিনি।

আর শিক্ষক-পড়ুয়াদের একটি অংশ আবার বলছেন, অধ্যক্ষের কাজে অনেকের অসুবিধা হচ্ছিল। তাই ‘অন্য খেলা’ শুরু হয়েছে। এই ‘অনেকের’ বলতে, ইঙ্গিত তৃণমূল ছাত্র পরিষদের একাংশের দিকে। অভিযুক্তরা যথারীতি তা অস্বীকার করেছেন।

অপসারণের দাবির চিঠি জমা পড়েছে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এ রকম যদি আমাকে ছাত্ররা কিছু দিয়ে থাকে, তা আমার দেখা হয়নি।’’ তিনি জানান, ছাত্রদের কিছু অভিযোগ থাকলে তা সরাসরি শিক্ষা দফতরে জানাতে পারে। তবে তারা নিজেরা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

বছর খানেক আগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়েছেন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এর আগের দু’বছর ছাত্র ভর্তি নিয়ে আর্থিক দুর্নীতি, আর কলেজ চত্বরে অশান্তি ছিল নিত্য দিনের ঘটনা। তাতে যে লাগাম পরানো গিয়েছে, তা মানছেন অনেকেই। বছর ঘুরতে না ঘুরতে সেই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেই ছাত্রছাত্রীদের ২৯ দফা অভিযোগের কথা শোনার পরে অনেকেই হতাশ।

সম্প্রতি ২৯ দফার অভিযোগপত্রটি কল্যাণীতে শিক্ষা মন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগপত্র ডাকযোগে মুখ্যমন্ত্রীকেও পাঠানো হয়েছে বলে দাবি টিএমসিপিরই একটা অংশের।

কলেজের শিক্ষকরা সরাসরি এই ঘটনার মধ্যে জড়িত হতে না চাইলেও তাঁদের মধ্যে একটা বিভাজন তৈরি হয়েছে। এক অধ্যাপকের কথায়, “কলেজে ছাত্র ভর্তি নিয়ে আর্থিক দুর্নীর্তি, বহিরাগতের দাপাদাপি অধ্যক্ষ প্রথম থেকেই কড়া হাতে মোকাবিলা করতে শুরু করায় অনেকেরই স্বার্থে ঘা লেগেছে।’’ তাঁদের মতে, তাই সাধারণ ছাত্রদের নামে এসব হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অধ্যাপক আবার বলছেন, “পরিচালন সমিতিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে তিনি নিজের ইচ্ছামতো কলেজ চালাতে চাইছেন। ছাত্র ভর্তির সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর বেআইনি ভাবে তিনি ছাত্র ভর্তি করেছেন।”

কিন্তু, পড়ুয়ারা কি নিজেরাই অভিযোগপত্রে সই করেছেন? প্রথম বর্ষের ছাত্র বাপ্পা মণ্ডল জানাচ্ছেন, তিনি জেনেবুঝেই সই করেছেন। টুপাই সাহা নামে আর এক ছাত্র বলছেন, ‘‘সই করেছি কিনা মনে করতে পারছি না।’’ অনিন্দ্য দাস নামে আর এক ছাত্র পরিষ্কার জানিয়েছেন, ওই অভিযোগপত্রে তাঁর নাম থাকলেও, তিনি কিন্তু সই করেননি।

ফলে একটা বিষয় পরিষ্কার, অভিযোগপত্রের আড়ালে একটা ‘খেলা’ চলছেই। অনেকেই জানিয়েছেন, কোন কিছু না পড়েই ইউনিয়নের দাদাদের কথা মত সাদা কাগজে সই করেছেন তাঁরা।

যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে শান্তিপুর কলেজের ছাত্র সংসদের প্রাক্তন জিএস তথা টিএমসিপি-র শান্তিপুর শহর সভাপতি মনোজ সরকার বলেন, “এটা পুরোপুরি সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বিষয়। আমরা কিছুই জানি না।’’ একই সঙ্গে তিনি এটা বলতেও ভুলছেন না যে, ‘‘তবে আমরা যেহেতু ছাত্র স্বার্থে লড়াই করি, তাই ছাত্রদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার দাবি করছি।”

চন্দ্রিমাদেবী বলছেন, “আমি অধ্যক্ষ হিসাবে যোগ দেওয়ার পরে ভর্তি সংক্রান্ত অস্বচ্ছতা দূর করতে পেরেছি। সেই সঙ্গে কলেজের ভিতরে বহিরাগতদের দাপাদাপি বন্ধ করে দিতে পেরেছি।’’ কয়েকজন বহিরাগতকে তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বের করিয়েছেন বলে দাবি তাঁর। তিনি মনে করছেন, তাঁর এই ধরণের কাজে অনেকেরই স্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে বলেই তারা এসব করছে। তিনি বলছেন, ‘‘জায়গামতো আমি সব কিছু জানাব।’’

পরিচালন সমিতির সভাপতি, প্রাক্তন বিধায়ক পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমি যতটা জানি অধ্যক্ষ অত্যন্ত শক্ত হাতে কলেজ পরিচালনা করতে চাইছেন। তারপরও কেন এই ধরণের অভিযোগ উঠছে তা খতিয়ে দেখতে হবে।”

TMCP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy