এক দিকে সামনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক। অন্য দিকে এসআইআর শুনানি। দুই ক্ষেত্রেই শিক্ষক ও শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আবার ব্লক স্তরের যে আধিকারিকদের এইআরও করা হয়েছে, তাঁদেরও পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে পরীক্ষার সময়ে এই সমস্ত আধিকারিক ও শিক্ষকদের ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাঁদের পক্ষে এক সঙ্গে দুই দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। ফলে এসআইআর প্রক্রিয়ায় লোকবলে টান পড়ার আশঙ্কা প্রবল বলে মনে করছেন প্রশাসমনের কর্তারা।
নদিয়া জেলার বিএলও-দের মধ্যে একটা বড় অংশ মাধ্যমিক শিক্ষক। এঁদের অনেকেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়কের (ইনভিজিলেটর) দায়িত্ব পালন করেন। এ বারও তাঁদের সেই দায়িত্ব দেওয়া হলে শুনানিতে বিএলও-র দায়িত্ব কে পালন করবে, প্রশ্ন সেখানেই। মাঝপথে অন্য কাউকে নতুন করে বিএলও হিসাবে নিয়োগ করা সম্ভব হবে কি না, তা-ও কর্তাদের কাছে স্পষ্ট নয়। যদি সেটা করাও যায়, তা হলেও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে। কারণ শুরুতেই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে বিএলও নিয়োগ করতে গিয়ে কার্যত কালঘাম ছুটে গিয়েছে জেলা প্রশাসনের কর্তাদের। কোনও মতে সেটা করা সম্ভব হয়েছে। আবার নতুন করে বিএলও খুঁজে বার করার কাজটা যে মোটেও সহজ হবে না তা বুঝতে পারছেন কর্তরা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদিয়ার বিএলও-দের প্রায় ২০ শতাংশ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক। স্কুলগুলিতে শিক্ষক-সংখ্যার যা হাল তাতে এই বিরাট সংখ্যক শিক্ষকদের বাইরে রেখে পরীক্ষা পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেছেন কর্তারা। শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের বড় অংশকে আবার এসআইআর শুনানির এইআরও করা হয়েছে। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষা দফতরের এই আধিকারিক, বিশেষ করে সার্কেল ইনস্পেক্টর এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনস্পেক্টরদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। ফলে তাঁদের পরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতেই হবে। সেই সঙ্গে ব্লকের সেই সমস্ত আধিকারিক, যাঁদের এইআরও-র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের যদি একই সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়, সে ক্ষেত্রেই বা কী হবে? তাঁরা যদি পরীক্ষা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান, তা হলে এইআরও-র ঘাটতি পড়বে। সেই ঘাটতি কী ভাবে পুরণ করা হবে তা নিয়েও সংশয়ে আছেন কর্তারা।
নদিয়ায় এখনও পাঁচ লক্ষেরও বেশি জনের শুনানি বাকি। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ইআরও, এইআরও এবং অ্যাডিশনাল এইআরও-র সংখ্যা ৩৫৫ জন। ব্লক প্রশাসন ও শিক্ষা দফতরের যে সমস্ত আধিকারিক এইআরও-র দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের যদি পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তা হলে শূন্যস্থান তৈরি হবে। জেলার এক কর্তার কথায়, “এই শূন্যস্থান পুরণ তো করতেই হবে। তার উপরে যদি গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে শুনানির শিবির নামিয়ে আনতে হয় তা হলে ইআরও, এইআরও বা অ্যাডিশানাল এইআরও-র সংখ্যা বাড়াতে হবে। জানি না, কোথা থেকে কী হবে। আপাতত নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া কোনও পথ খোলা নেই।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)