বিশ্বাস করুন, আমি জানতাম না যে আমার ছেলে বদসঙ্গে পড়েছে, মদ খাচ্ছে। জানলে আগেই শাসন করতাম। আমাকে ও যেমন ভালবাসত, তেমন ভয়ও পেত।
ইদানীং মাঠের সব্জি বিক্রির টাকা ও বন্ধুদের পিছনে খরচ করতে শুরু করেছিল। ভাবতাম, দু’দিন পরেই তো দূরে কাজে চলে যাবে। ওইটুকু ছেলে। তার আগে না হয় বন্ধুদের সঙ্গে একটু আনন্দই করে নিক। কিন্তু কে জানত যে সেই আনন্দ করতে যাওয়াই ওর কাল হয়ে দাঁড়াবে!
এত দিন খুব কষ্টের মধ্যে দিয়ে আমাদের সংসারটা গিয়েছে। খুব অভাব। মাত্র দশ কাঠা ধানের জমি আর দশ কাঠা সব্জির জমি। তা চাষ করেই কোনও রকমে সংসার চালিয়ে এসেছি। ছেলে গত বছর পড়া ছেড়ে দিল। খুব বকলাম। ও বলল, ‘বাবা, আমার যখন পড়তে ভাল লাগে না, তখন না হয় কাজ করতেই যাই। তাতে সংসারে অভাবটা কিছুটা কমবে। তোমার আর মার কষ্ট কমবে।’
ছেলেটা এই সংসারটাকে দাঁড় করাতে চেয়েছিল। সকলের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিল। স্কুল ছাড়ার পরে মাঠে যেতে শুরু করেছিল। দু’জনে মিলে চাষ করে এ বার প্রায় সাড়ে তেরো হাজার টাকা জমিয়েছিলাম। সেই টাকায় নতুন ইট কিনে আনল। বলত, পুণেয় হোটেলে কাজ করে টাকা পাঠাবে। ভাল ঘর বানাবে। দিদির বিয়ে দেবে। বোনকে পড়াবে। কিছুই হল না। তার আগেই সব ছেড়ে চলে যেতে হল কোন দোষে?
তন্ময় আমার জ্যাঠতুতো দাদার ছেলে। রাতে ইট চুরি করছিল। তাই একটা চড় মেরেছিলাম। এইটুকু শাসন করতে পারব না? এই সামান্য কারণে ও আমার ছেলেকে খুন করে দিল? এ তো আমি ভাবতেই পারছি না।
আর কেষ্ট? বিশ্বাস করুন, আমি ওর কোনও ক্ষতি করিনি। আমি এমন কোনও তুকতাক জানি না যাতে কারও বউ বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। তবুও যদি আমার উপরে রাগ থাকে, আমাকেই খুন করতে পারত। নিষ্পাপ ছেলেটাকে মেরে ফেলল কেন?