Advertisement
E-Paper

কর্মী নেই, বন্ধ ইউএসজি

চিত্র:১ স্বামী মারা গিয়েছেন অনেক দিন আগেই। ছেলে দিনমজুর। দিনমজুরির টাকায় টেনেটুনে কোনওরকমে সংসার চালান নবদ্বীপের তেওড়খালির বাসিন্দা রুকভানু বেওয়ার। দিনকয়েক আগে পেটের সমস্যা নিয়ে তিনি শক্তিনগর হাসপাতালে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার চিকিৎসক পরামর্শ দেন, ‘আল্ট্রাসোনোগ্রাফি’ (ইউএসজি) করাতে হবে।

সুস্মিত হালদার

শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০১৬ ০১:৩২
বন্ধ পড়ে ইউএসজি বিভাগ।— নিজস্ব চিত্র

বন্ধ পড়ে ইউএসজি বিভাগ।— নিজস্ব চিত্র

চিত্র:১ স্বামী মারা গিয়েছেন অনেক দিন আগেই। ছেলে দিনমজুর। দিনমজুরির টাকায় টেনেটুনে কোনওরকমে সংসার চালান নবদ্বীপের তেওড়খালির বাসিন্দা রুকভানু বেওয়ার। দিনকয়েক আগে পেটের সমস্যা নিয়ে তিনি শক্তিনগর হাসপাতালে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার চিকিৎসক পরামর্শ দেন, ‘আল্ট্রাসোনোগ্রাফি’ (ইউএসজি) করাতে হবে। মাঝবয়সী ওই মহিলা এ দিক সে দিক খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, হাসপাতালে ইউএসজি করার সুবিধা থাকলেও সে ঘর আপাতত তালাবন্ধ। বাধ্য হয়ে তাঁকে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হয়। খরচ হয় পাঁচশো টাকা।

চিত্র:২ তাহেরপুরের বারাসত থেকে সুস্মিতা সাহা পেটে যন্ত্রণা নিয়ে মঙ্গলবার শক্তিনগর হাসপাতালে ভর্তি হন। স্বামী গাড়ি চালক। চিকিৎসক ওই মহিলাকে ‘ইউএসজি’ করার পরামর্শ দেন। মহিলার স্বামী খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, হাসপাতালে ‘ইউএসজি’ যন্ত্র থাকলেও তা চালানোর লোক নেই। শেষমেশ বাইরের একটি পরীক্ষাগার থেকে ন’শো টাকা খরচ করে তিনি স্ত্রীর ইউএসজি করান।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার বিনা পয়সায় সরকারি হাসপাতালে দরিদ্রদের জন্য চিকিৎসার যাবতীয় বন্দোবস্তের কথা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু নদিয়ার শক্তিনগর ও সদর হাসপাতালের ‘ইউএসজি’র ঘর বেশ কয়েকদিন ধরে তালাবন্ধ। ফলে লোকজনকে গাঁটের ক়ড়ি খরচ করে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৭ ডিসেম্বর থেকে ইউএসজি-র ঘর বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ জন রোগীকে ‘ইউএসজি’ করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। ওই সব রোগীদের বাইরে থেকে মোটা টাকার বিনিময়ে ‘ইউএসজি’ করাতে হচ্ছে। কেন এই সমস্যা? হাসপাতাল কতৃপক্ষের দাবি, ‘ইউএসজি’ করার জন্য হাসপাতালে দু’জন কর্মী রয়েছে। কিন্তু এই মুহুর্তে তাঁরা ছুটিতে রয়েছেন। দু’বছর হাসপাতালে এর জন্য একজন মাত্র কর্মী ছিলেন। সম্প্রতি আর একজন যোগ দিয়েছেন। ওই দু’জনই এক সঙ্গে ছুটি নেওয়াতেই এই বিপত্তি বলে জানাচ্ছে হাসপাতালের একটি সূত্র। একজন ‘ট্রানজিট লিভ’ নিয়েছেন। অপরজন বাড়িতে গিয়ছেন মায়ের শেষকৃত্যে। ওই দু’জন কবে কাজে যোগ দেবেন, সে ব্যাপারে কেউ নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারছেন না।

Advertisement

সব মিলিয়ে আর কতদিন রোগীদের মোটা টাকা খরচ করে বাইরে থেকে ‘ইউএসজি’ করাতে হবে, তারও কোনও সদুত্তর নেই কারও কাছে। এক চিকিৎসকের কথায়, ‘‘বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে অনেক টাকা খরচ হয়। সেটা দরিদ্র রোগীদের ক্ষেত্রে বহন করা বেশ বোঝা হয়ে‌ দাঁড়ায়। কিন্তু চিকিৎসার প্রয়োজনে আমাদের ‘ইউএসজি’ পরীক্ষা করতে বলতে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রসূতিদের ক্ষেত্রে ‘ইউএসজি’ করানো খুবই জরুরি। হাসপাতালের সুপার পার্থপ্রতিম দে বলেন, ‘‘দু’জনই কর্মীই বিশেষ কারণে ছুটি নিয়েছেন। খুব দ্রুত নতুন একজন কর্মী ওই বিভাগে যোগ দেবেন। তাছাড়া আমরা চিকিৎসকদের একটি সংগঠনের তরফে চালানো একটি পরীক্ষাগার থেকে রোগীদের ‘ইউএসজি’ করাচ্ছি। সেই বিল রোগী কল্যাণ সমিতির তহবিল থেকে পরে মেটানো হবে।’’ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক তাপস রায় জানান, তিনি দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy