চেক জালিয়াতির ঘটনায় আরও এক জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম অমিতকুমার পাত্র। বাড়ি ওড়িশার কাডোডিহা গ্রামে। শুক্রবার বিকেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি ধৃত ব্যক্তি চেক জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, যে দশটি জাল চেক থেকে পুরসভার প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে চারটি চেকের টাকা জমা পড়েছিল অমিতের অ্যাকাউন্টে। যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা। পরে তার এটিএম-এর মাধ্যমেই সেই টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। এর আগেই অবশ্য পুলিশ তিলোত্তমা মুদাল নামে এক মহিলাকে ওড়িশার ভদ্রক এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, এই মহিলা জালিয়াতি চক্রান্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তিনিই এই চক্রের মূল পাণ্ডা মহম্মদ বাবুর নামে অ্যাকাউন্ট খোলার ‘গ্যারান্টার’ ও ‘ইন্ট্রোডিউসার’ হয়েছিলেন।
কোতোয়ালি থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে জালিয়াতির ১০টি চেকের টাকা তিনটি আলাদা আলাদা অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল। তার মধ্যে কেবল মাত্র অমিতকুমার পাত্রকেই চিহ্নিত করতে পেরেছে তদন্তকারী আধিকারিকেরা। মূল পাণ্ডা মহম্মদ বাবুর ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া সমস্ত নথিই ভুয়ো। এই মুহূর্তে পুলিশ তার আসল পরিচয় জানতে পারেনি। পাশাপাশি ব্যাঙ্কের তরফে অন্য একজনের পরিচয় জানায়নি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক। এই দু’জনকে জেরা করে বাকি দু’জনের পরিচয় জানা যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা।
কৃষ্ণনগর পুরসভার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কৃষ্ণনগর শাখায় অ্যাকাউন্ট আছে। গত বছর ১৭ জুন ওই শাখার এক কর্মী পুরসভায় ফোন করে জানতে চান যে তারা তিন লক্ষের বেশি টাকার দু’টি চেক অমিতকুমার পাত্র ও মহম্মদ বাবু নামে কাউকে দিয়েছেন কি না। চেক দুটি জমা পড়েছে ১১ জুন এবং তা ভাঙানোও হয়ে গিয়েছে। এর পর পুরসভা কতৃপক্ষ নিজেদের নথিপত্র খতিয়ে দেখে জানিয়ে দেন, যে নম্বরের দুটি চেকের কথা বলা হচ্ছে সে গুলি তাদের চেক বইয়ে আছে। কাউকে দেওয়া হয়নি। পরে ব্যাঙ্ক থেকে পাঠানো স্টেটমেন্ট থেকে পুরসভা বুঝতে পারে যে শুধু ওই দুটি চেক নয় পুরসভার চেকবইয়ে আছে এমন দশটি বিভিন্ন নম্বরের চেক ভাঙিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ চেকগুলি জাল। এর পর ১৮ জুন পুরপ্রধান অসীম সাহা কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।