জাঁকিয়ে পড়েছে শীত। পাল্লা দিয়ে জমে উঠেছে নাট্যোৎসবও।
কান্দির ‘ঝড়’ নাট্যগোষ্ঠীর পরিচালনায় কান্দি পুরসভা সংলগ্ন হ্যালিফক্স ময়দানে শুরু হয়েছে ‘সারা বাংলা নাট্যোৎসব’। প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে নানা স্বাদের নাটক। নাটক দেখতে হাজির হচ্ছেন শয়ে শয়ে মানুষ। টিভি-সিরিয়াল ছেড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের নাটক দেখতে হাজির হতে দেখে স্বভাবতই খুশি উদ্যোক্তারা।
উদ্যোক্তারা জানান, প্রতি বছরই নাট্যোৎসবের আয়োজন করা হয়। এ বার তা আঠারো বছরে পড়ল। এ বার দর্শকের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। শুধু কান্দি নয় কান্দির বাইরে থেকেও বহু নাট্যমোদী মানুষ নাটক দেখতে আসছেন।
গুন্দুরিয়ার বাসিন্দা ছোটন দাস বলেন, “দিনভর চাষে ব্যস্ত থাকি। সন্ধ্যায় কোনও কাজ থাকে না। তাই নাটক দেখতে চলে এসেছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘দেশ-সমাজ কেমন চলছে নাটকে দেখে একটু একটু আন্দাজ করতে পারছি।’’ এ বারের নাট্যোৎসবে দর্শকদের মধ্যে মহিলারাই বেশি। কান্দির বাসিন্দা নন্দিতা মণ্ডল বলেন, “সব সিরিয়াল কমবেশি একই ধরনের। কোন সিরিয়ালে কী ঘটবে আগেই থেকেই বোঝা যায়। তার চেয়ে শহরে নাটক দেখে অনেক কিছুই নতুন জিনিস জানতে পারছি।’’
তবে পাদপ্রদীপের নীচে অন্ধকার এখনও রয়ে গিয়েছে। কান্দির মতো সাংস্কৃতিক শহরে এখনও নাটকের জন্য কোনও স্থায়ী মঞ্চ গড়ে ওঠেনি। অস্থায়ী ভাবে মঞ্চ বেঁধে নাট্যোৎসব আয়োজন করা হয়েছে। লেখক অপরেশ চট্টপাধ্যায় বলেন, “এ বার নাট্যোৎসবে মানুষের ঢল নেমেছে ঠিকই। তবে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের সংখ্যা অনেক কম। আমরা চাই যুব সমাজ নাটক উৎসবে আসুক। তারাও উপভোগ করুক ওই উৎসবকে।” তাঁর আশা, নতুন প্রজন্ম যদি সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে তাঁদের চেষ্টায় গোটা কান্দি মহকুমা জুড়ে সাংস্কৃতিক বদল আসবে। ‘ঝড়’ নাট্যগোষ্ঠীর সদস্য পঞ্চানন দাসও স্বীকার করছেন, অন্যান্য বারের তুলনায় এ বার দর্শক বেশি। তবে নতুন প্রজন্মের মুখ অনেক কম। বৃহস্পতিবার ওই নাট্যোৎসবের সমাপ্তি হয়। সপ্তাহ ধরে চলা ওই নাট্যোৎসবে মোট ১৪টি নাটক মঞ্চস্থ হয়।