Advertisement
E-Paper

তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুতে এখনও ধোঁয়াশা

ছেলে প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের মৃত্যুর ঘটনায় বেশ কিছু সন্দেহ তৈরি হয়েছে বাবা বিমান বিশ্বাসের মনে। সে কথা তিনি লিখিত ভাবে অভিযোগ আকারে জমা দেওয়ার জন্য বার বার বহরমপুর থানায় গেলেও পুলিশ তা নিতে অস্বীকার করে বলে অভিযোগ। এমনকী তাঁর সঙ্গে পুলিশ দুর্ব্যবহারও করে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০২:১৪

ছেলে প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের মৃত্যুর ঘটনায় বেশ কিছু সন্দেহ তৈরি হয়েছে বাবা বিমান বিশ্বাসের মনে। সে কথা তিনি লিখিত ভাবে অভিযোগ আকারে জমা দেওয়ার জন্য বার বার বহরমপুর থানায় গেলেও পুলিশ তা নিতে অস্বীকার করে বলে অভিযোগ। এমনকী তাঁর সঙ্গে পুলিশ দুর্ব্যবহারও করে। শনিবারের পরে রবিবারও লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বহরমপুর থানায় গেলে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

শুক্রবার গভীর রাতে বহরমপুর থানার হাতিনগর পঞ্চায়েতের নিমতলা মোড়ের কাছে বহরমপুর-ডোমকল রাজ্য সড়কের পাশে থেঁতলে যাওয়া প্রসেনজিতের দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই রাতেই দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। প্রসেনজিৎ এলাকার তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত। বিমান বিশ্বাস বলেন, ‘‘আমার ছেলে দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকেও বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু ওই মৃত্যুকে ঘিরে আমার যে সব সন্দেহ তৈরি হয়েছে, তা লিখিত আকারে থানায় জমা দেওয়ার কথা বললেও পুলিশ তা নিতে অস্বীকার করেছে। উল্টে পুলিশ আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। শনিবার তারা লিখিত অভিযোগ জমা নেয়নি। এদিনও লিখিত অভিযোগ জমা না নিয়ে আমাকে থানা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’’ তাঁর অভিযোগ, ‘‘ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ওই ঘটনায় কোনও অভিযোগ জমা নেওয়া হবে না বলেও পুলিশ আমাকে জানায়।’’ বহরমপুর থানার আইসি অরুনাভ দাস অবশ্য ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘‘বিমান বিশ্বাস কোনও অভিযোগ থানায় জমা দেননি।’’

এদিকে ঘটনার পরে পুলিশ প্রসেনজিতের দুই বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। কিন্তু তার পরে ২৪ ঘন্টা কেটে গেলেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাদের থানায় আটক করে রেখেছে, এমনটাই অভিযোগ ওই দুই যুবকের পরিবারের লোকজনের। যে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ, তার মধ্যে একজন হাতিনগর অঞ্চল যুব তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি নন্দ আচার্যের ভাই। নন্দবাবু বলেন, ‘‘জিজ্ঞাসাবাদের নামে পুলিশ আমার ভাইকে থানায় আটক করে রেখেছে। ২৪ ঘন্টা কেটে গেলেও আদালতে হাজির করেনি, এমনকী ছেড়েও দেয়নি। গোটা বিষয়টি জেলা নেতৃত্বকে জানিয়েছি।’’

Advertisement

রবিবার হাতিনগর পঞ্চায়েতের মুক্তিনগরে কর্মী সম্মেলন ছিল। কিন্তু প্রসেনজিতের মৃত্যুতে ওই কর্মী সম্মেলন পিছিয়ে দেওয়া হয়। আগামী মঙ্গলবার ওই কর্মী সম্মেলন হবে বলে জানান বহরমপুর বহরমপুর (পূর্ব) ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি আশিস সরকার। ওই সম্মেলন আয়োজনের জন্য বহরমপুর-ডোমকল রাজ্য সড়কের উপরে দাঁড়িয়ে জোর করে অর্থ আদায়ের সময়ে কুয়াশার মধ্যে একটি লরি প্রসেনজিৎকে পিষে দিয়ে চলে যায় বলে জেলার মুখে আটককারীরা জানিয়েছে। প্রসেনজিতের বাবা বলেন, ‘‘শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত নন্দ আচার্যের সঙ্গেও আমার ছেলেকে চাঁদা তুলতে দেখেছেন এলাকার লোকজন।’’ কিন্তু নন্দ আচার্য জানান, তাঁর সঙ্গে প্রসেনজিৎ ছিল। কিন্তু কোনও চাঁদা তোলার বিষয় ছিল না। বহরমপুর থানায় একটি কাজে গিয়েছিলেন। সেখান ফিরে তিনি পরিচিত একজনের বিয়ের অনুষ্ঠানে চলে যান। সেখান থেকে ফিরে রাত ১১টা নাগাদ প্রসেনজিৎকে নিমতলা মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। সেখানে প্রসেনজিতের আরও দুই বন্ধু ছিলেন। প্রসেনজিৎকে তিনি বাড়ি চলে যেতে বলেন। তার পরে ভোর বেলার দিকে ফোন করে একজন তাঁকে প্রসেনজিতের দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার খবর জানান।

এ দিকে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কোনও কারণ স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ নেই। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদেহের মাথা-সহ শরীরের উপরের দিকের অংশ এমন ভাবে থেঁতলে গিয়েছে যে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে মৃত্যু রহস্যের জট ৪৮ ঘন্টা পরেও খুলল না!

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy