রঘুনাথগঞ্জে ৫ দিনের নাট্যোৎসব শুরু হল বুধবার। সব সিজন টিকিটের বিক্রি ইতিমধ্যেই শেষ।
শহরের বিভিন্ন নাট্যসংস্থা থেকে বেরিয়ে আসা ২৪ জন তরুণের চেষ্টাতেই রঘুনাথগঞ্জে নাটক নিয়ে সাম্প্রতিক এই উন্মাদনার শুরু। বহরমপুর রেপার্টরি থিয়েটারের প্রদীপ ভট্টাচার্যের নির্দেশনায় ‘সক্রেটিসের বিচার’ দিয়ে নাট্যোৎসবের শুরু। আজ, বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে রয়েছে রঘুনাথগঞ্জ গ্রুপ থিয়েটারের নাটক ‘একটি অবাস্তব গল্প’। পরিকল্পনা ও নির্দেশনা অনিরুদ্ধ দাস। বীরভূমের সিউড়ির ইয়ং নাট্য সংস্থা প্রযোজিত নাটক ‘অনুভবে বিনোদিনী’র আয়োজন তৃতীয় দিনে। শনিবার চতুর্থ দিনের নাটকের উপস্থাপক বর্ধমান প্রয়াস নাট্য সংস্থার ‘পরাশরের পাসওয়ার্ড’। শেষ দিনের নাটক হুগলির বৃশ্চিক নাট্য সংস্থার ‘অন্তর্দর্শন’।
আয়োজক সংস্থার তরফে রঘুনাথগঞ্জ গ্রুপ থিয়েটার সংস্থার সম্পাদক অজিত সরকার জানালেন, বিভিন্ন নাট্য সংস্থা থেকে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বেরিয়ে আসা ২৪ জন নাট্যপ্রেমী তরুণকে নিয়েই এই সংস্থা। তিনি বলেন, ‘‘কলাকুশলী থেকে শিল্পীদের অধিকাংশই বেকার। টাকার অভাবে এ রকম বড় ধরণের নাট্যোৎসব করা বেশ ঝুঁকির।’’ প্রায় ১ লক্ষ ৭ হাজার টাকার বাজেটের এই নাট্যোৎসবকে সফল করতে পুজোর চাঁদা তোলার মতো শহরের বাড়ি বাড়ি ঘুরেছেন বলে তাঁদের দাবি। তাতে সাড়া মেলায় বুক ঠুকে নাট্যোৎসবের আয়োজন।
সিজন টিকিট বিক্রি শেষ হলেও হলের জন্য দিনপিছু রাখা হয়েছে ৫০টি করে টিকিট। সংস্থার অন্যতম সদস্য রাজেন্দ্র প্রসাদ সিংহের কথায়, ‘‘এক সময় নাটক ঘিরে গম গম করত রঘুনাথগঞ্জের রবীন্দ্রভবন। অনেক নাট্যদলও গড়ে উঠেছিল। তবে যত দিন গিয়েছে দর্শক সংখ্যা কমেছে। কমেছে ভাল নাটক নিয়ে চর্চাও। ইতিমধ্যে হারিয়েছে বহু নাট্যসংস্থা।’’ অনেকেরই অভিযোগ, এক-একেকটা দল নেহাতই ব্যক্তিকেন্দ্রিক সংস্থা। তাতে ক্ষতি হয়েছে নাটকের।
তবে এ বার নাটক নিয়ে উৎসাহ আগের চেয়ে কিছু বেড়েছে বলে মনে করছেন নাট্যজগতের অনেকেই। টিকিটের চাহিদা তার একটি দিক। তাতেই আশা বুনছেন নাট্যপ্রেমীরা।