জমাটি নাট্যমেলায় জমজমাট শহরের শীতসন্ধ্যা। গাঙচিল, ঋত্বিক, বহরমপুর রেপার্টরি থিয়েটার (বিআরটি) ও প্রান্তিকের পরে ফের বহরমপুর মেতেছে বিআরটি-র দ্বিতীয় দফার নাট্যোৎসবে।
গত ২২-২৫ ডিসেম্বর বিআরটি-র ‘লোকসংস্কৃতি ও মুক্তমঞ্চ নাট্যমেলা ২০১৫’ অনুষ্ঠিত হয় খাগড়া জিটিআই স্কুলের মাঠে। শহিদ নাট্যকর্মী সফদর হাসমির জন্মদিন ১ জানুয়ারি। বহরমপুর রেপার্টরি থিয়েটারের জন্মদিনও ১ জানুয়ারি। ৩০ বছর আগে এই দিনে আত্মপ্রকাশ করে বিআরটি। হাসমি এবং বিআরটি-র জন্মদিন উপলক্ষে গত শুক্রবার ১ জানুয়ারি বিকালে ‘নাট্যোৎসব-২০১৬’র শুরু হয় যুগাগ্নির উদ্বোধনী নাটক ‘আমি মেয়ে’ দিয়ে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয় বহরমপুর রবীন্দ্রসদনের ঢোকার আগে সিঁড়ির সামনে চাতালে। বিআরটি-র কর্ণধার প্রদীপ ভট্টাচার্য জানান, দর্শকরাই মোমবাতি জ্বালিয়ে নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করে প্রেক্ষাগৃহে ঢোকেন। অর্থাৎ, দর্শকরাই উদ্বোধক।
রবীন্দ্রসদনের মঞ্চে প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। কোনও সন্ধ্যায় রয়েছে দু’টি নাটক। কোনও দিন একটি। এই ভাবে ১-৫ জানুয়ারি পাঁচ দিনের নাট্যোৎসবে মোট আটটি নাটক মঞ্চস্থ হবে। সংশোধনাগারের আবাসিকদের নিয়ে বিআরটি-ই প্রথম নাটক মঞ্চস্থ করে ইতিহাস রচনা করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তিনটি নাটক— ‘তোতাকাহিনি’, ‘তাসের দেশ’ ও ‘যক্ষপুরী’র দল নিয়ে বিআরটি দিল্লি, কলকাতা, শান্তিনিকেতন-সহ দেশের বিভিন্ন শহর ঘুরেছে। সংশোধনাগারের আবাসিকদের দিয়ে কী ভাবে ও কোন পরিস্থিতিতে ওই তিনটি নাটক করা সম্ভব হয়েছে, তাই নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন বিআরটি-র কর্ণধার প্রদীপ ভট্টাচার্য। প্রদীপবাবু জানান, রবিবার নাট্যোৎসবের তৃতীয় দিন, দুপুর ১১টায় ‘গোত্রান্তর’ নামের তথ্যচিত্রটি দেখানো হয়। জেল-নাটকের বিষয়ে আলোচনা সভাও হয়।
আজ, সোমবার নাট্যোৎসবের চতুর্থ সন্ধ্যায় রয়েছে বিআরটি-র প্রযোজনা ‘যক্ষপুরী’। রবীন্দ্র-নাটক ‘যক্ষপুরী’র কুশীলবেরা সবাই বহরমপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের সাজাপ্রাপ্ত আবাসিক। ৫ জানুয়ারি সমাপ্তি সন্ধ্যায় রয়েছে দু’টি নাটক— অসিত বসু নির্দেশিত ‘মানিক’ ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নির্দেশিত ‘তিন সত্যি’। কলকাতার আখড় নাট্যসংস্থার নাটক ‘মানিক’ মঞ্চস্থ হওয়ার পর অভিনীত হবে দত্তপুকুরের দৃষ্টি নামের নাট্যসংস্থার নাটক ‘তিন সত্যি’। তারপরেই যবনিকাপাত বিআরটি-র ‘নাট্যোৎসব-২০১৬’র।