Advertisement
E-Paper

ভৈরবচন্দ্রপুরে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূল নেতৃত্ব

গোষ্ঠী সংঘর্ষে নিহত দলীয় কর্মীদের বাড়ি গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন রানাঘাটের সদ্য জয়ী তৃণমূল সাংসদ তাপস মণ্ডল। শুক্রবার নদিয়ার হাঁসখালির ভৈরবচন্দ্রপুর গ্রামে ভোটের ফল ঘোষণার পরে তৃণমূলের বিজয়মিছিল থেকে হামলা চালিয়ে খুন করা হয় দলেরই কর্মী শ্যামল বিশ্বাস (৪০) ও গুরুপদ বিশ্বাসকে (৫০)।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০১৪ ০০:৩৪

গোষ্ঠী সংঘর্ষে নিহত দলীয় কর্মীদের বাড়ি গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন রানাঘাটের সদ্য জয়ী তৃণমূল সাংসদ তাপস মণ্ডল।

শুক্রবার নদিয়ার হাঁসখালির ভৈরবচন্দ্রপুর গ্রামে ভোটের ফল ঘোষণার পরে তৃণমূলের বিজয়মিছিল থেকে হামলা চালিয়ে খুন করা হয় দলেরই কর্মী শ্যামল বিশ্বাস (৪০) ও গুরুপদ বিশ্বাসকে (৫০)। এক দিন পর রবিবার নিহত দুই তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান রানাঘাটের সদ্য নির্বাচিত সাংসদ-সহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি বানীকুমার রায়, বিধায়ক সমীরকুমার পোদ্দার, পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়-সহ দলের নেতারা। তাঁরা গ্রামে ঢুকতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসী। ঘটনার পরে কেন তাঁদের দেখা যায়নি, জানতে চান গ্রামবাসী। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কঠিন শাস্তি দাবির পাশাপাশি কেন দলেরই লোকের হাতে দু’জনকে খুন হতে হল তা নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের কাছে ক্ষোভ উগরে দেন গ্রামবাসী।

বেতনা-গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, “এভাবে চোখের সামনে দু’জনকে খুন হতে দেখে গ্রামের মানুষ উত্তেজিত। গোটা গ্রাম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তার উপরে গত দু’দিনে দলের কোনও নেতা গ্রামে না আসায় লোকজন ক্ষেপে আছেন।”

জেলা পরিষদের সভাধিপতি বানী কুমার রায় এই ঘটনাকে অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছেন। কেন দলের ভিতরে এমন ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখছেন বলে জানান তিনি। সভাধিপতি বলেন, “গ্রামে এমন একটা মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যাওয়ায় সকলেই খুব মর্মাহত। তাঁদের অভাব অভিযোগের কথা আমরা শুনেছি। শ্যামল বিশ্বাসের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা তাঁর পরিবারের পাশে থাকব।” আর দেরিতে আসার কারণ দর্শাতে সাংসদ তাপস মণ্ডল জানান, শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডেকে পাঠিয়েছিলেন বলে তিনি আসতে পারেননি। তিনি বলেন, “কলকাতা থেকে ফিরে রবিবারই চলে এসেছি।’’

এ দিকে ভোট পরবর্তী গোলমাল চলছেই। শনিবার রাতে নদিয়ার কল্যাণী থানার গয়েশপুরে সিপিএম সমর্থক এক পরিবারে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে ওই বাড়ির সদস্য উষা পালকে। উষাদেবীর মাথা ফেটেছে। তিনি কল্যাণী জওহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনায় অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে। উষাদেবীর পরিবারের অভিযোগ, সিপিএম-কে ভোট দিয়েছিলেন বলেই তাঁকে মারধর করা হয়েছে। তৃণমূল অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে, শুক্রবার রাতে শান্তিপুরের পোস্ট অফিস মোড়ের কাছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা মৃণাল মৈত্রর বাড়িতে হামলা চালায় একদল যুবক। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা বাধা দিলে তাঁদের উপরে চড়াও হয় তারা। পুলিশকে উদ্দেশ করে চলতে থাকে ইট-বর্ষণ। ইটের আঘাতে জখম হন এক পুলিশ আধিকারিক। ওই ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

চাপড়ার লক্ষ্মীগাছা এলাকায় বোমা ফেটে গুরুতর জখম হয়েছেন দুই যুবক। আহতদের বাড়ি কৃষ্ণনগরের বাগানপাড়া এলাকায়। শনিবার দুপুরে কয়েকজন তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় চাপড়া গ্রামীণ হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে চলে যায়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওই দুই যুবককে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। কী ভাবে বোমা ফাটল, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

krishnanagar bhairabchandrapur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy