Advertisement
E-Paper

স্কুলে কোমর-জল, ডুবে মৃত্যু শিশুর

স্কুলও নিরাপদ নয়। স্কুল-চত্বরে জমা কোমর-সমান জলে খেলতে গিয়ে ডুবে মারা গেল স্কুল-লাগোয়া বাড়ির বছর আটেকের এক শিশু। গত ১৫ জুলাই ওই ঘটনার পরে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন অভিভাবকেরা। ঝুঁকি নিতে রাজি হননি স্কুল কর্তৃপক্ষও। ফের যাতে কোনও অঘটন না ঘটে, তাই স্কুলে ছুটি ঘোষণা করে দিয়েছেন ধুলিয়ানের মহব্বতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ, বুধবার, স্কুল বন্ধ থাকার এক সপ্তাহ হবে। কবে স্কুল খুলবে, তা অনিশ্চিত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৫ ০১:০৯
এ ভাবেই জলে ডুবে রয়েছে মহব্বতপুর প্রাথমিক স্কুল চত্বর। —নিজস্ব চিত্র।

এ ভাবেই জলে ডুবে রয়েছে মহব্বতপুর প্রাথমিক স্কুল চত্বর। —নিজস্ব চিত্র।

স্কুলও নিরাপদ নয়। স্কুল-চত্বরে জমা কোমর-সমান জলে খেলতে গিয়ে ডুবে মারা গেল স্কুল-লাগোয়া বাড়ির বছর আটেকের এক শিশু। গত ১৫ জুলাই ওই ঘটনার পরে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন অভিভাবকেরা। ঝুঁকি নিতে রাজি হননি স্কুল কর্তৃপক্ষও। ফের যাতে কোনও অঘটন না ঘটে, তাই স্কুলে ছুটি ঘোষণা করে দিয়েছেন ধুলিয়ানের মহব্বতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ, বুধবার, স্কুল বন্ধ থাকার এক সপ্তাহ হবে। কবে স্কুল খুলবে, তা অনিশ্চিত।
স্কুল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলের কাছে দুটি কালভার্টের উপর বেআইনি নির্মাণের জন্য জল বেরোচ্ছে না। মহব্বতপুর প্রাথমিক স্কুলের ঠিক পাশেই বাড়ি মানোয়ার হোসেনের (৮)। গত বুধবার তার মৃতদেহ উদ্ধার হলে আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। বাসিন্দারা জানান, মানোয়ার স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে পড়ত। কিন্তু সে যেখানে ডুবে গিয়েছে, সেই রাস্তা দিয়েই মহব্বতপুর স্কুলে যেতে হয় অন্য পড়ুয়াদের। ঝুঁকি বুঝে স্কুলে ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হয়।
ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুনির্মলচন্দ্র দাস বলেন, ‘‘বিপদের ভয়ে পড়ুয়াদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা দফতরেও জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত জমা জল সরানোর ব্যাপারে কেউ পদক্ষেপ করেননি।’’ ওই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ৩৬৬ জন। প্রধান শিক্ষক-সহ স্কুলে ৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন। জমা জল মাড়িয়ে শিক্ষকেরা কোনও রকমে স্কুলে এলেও স্কুলে আসতে পারছেন না ওই স্কুলের এক শিক্ষিকা। তিনি রাস্তার উপরেই গ্রামের এক দোকান পর্যন্ত এসে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
বেহাল নিকাশির জন্য ওই স্কুল তো বটেই, স্কুল লাগোয়া শ’খানেক বাড়িতেও জল জমে গিয়েছে। এমন অবস্থা কেন? সুনির্মলবাবু জানান, গত ৫ জুলাই থেকে নাগাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির জমা জল এতদিন বেরিয়ে যেত কিছু দূরের দু’টি কালভার্ট দিয়ে। কিন্তু কোনও নিয়ম না মেনে যেখানে সেখানে বাড়ি-ঘর তৈরি করায় গত বছর থেকে ওই দু’টি কালভার্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বৃষ্টির জল বেরোতে পারছে না। এর আগে শিক্ষকেরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে পড়ুয়াদের হাত ধরে হাঁটুজল পার করে দিচ্ছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে জমা জল বাড়তেই থাকে। ১৫ জুলাই দুর্ঘটনার পরে কেউ ঝুঁকি নেননি।

অভিযোগ, সমস্ত ঘটনা লিখিত ভাবে এবং ফোনে একাধিক বার জানানো হয়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান থেকে স্কুল পরিদর্শককে। কিন্তু জল সরাতে কেউই কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। স্কুল সূত্রে খবর, আগামী ২৭ জুলাই থেকে দ্বিতীয় পর্বের মূল্যায়ণ পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। সে পরীক্ষা আদৌ নেওয়া সম্ভব কি না তা নিয়ে সন্দিহান শিক্ষকরা। গ্রামের বাসিন্দা শিস মহম্মদ, মহম্মদ ফিটু শেখরা জানান, জমা জল নেমে যাওয়া তো দূরের কথা, টানা বৃষ্টিতে জল ক্রমশ বেড়েই যাচ্ছে। মঙ্গলবারেও ৫ ইঞ্চি জল বেড়েছে। স্কুলচত্বর-সহ চারপাশের অন্তত ১০০ মিটার রাস্তা জলে ভাসছে। এমন অবস্থায় ছেলেমেয়েদের প্রাণ বিপন্ন করে কী করে স্কুলে পাঠাবেন তাঁরা?

দোগাছি-নওপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গোলাম রাব্বানি বলেন, ‘‘স্কুলের এই দুরবস্থার কথা শুনেছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বন্ধ থাকা কালভার্ট দু’টির মুখ খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’’ মুর্শিদাবাদ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি দেবাশিস বৈশ্য বলেন, ‘‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। জমা জল সরিয়ে যাতে দ্রুত স্কুলটিতে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো যায় তার চেষ্টা হচ্ছে।’’ তাঁর বক্তব্য, শিক্ষকদেরই ভয় কাটানোর ভার নিতে হবে।

শিক্ষকদের অবশ্য প্রশ্ন, ‘‘চারদিক জলে ভাসছে। স্কুলের মধ্যে সাপ ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিজেরাই আতঙ্কে রয়েছি। পড়ুয়াদের আসতে বলব কী করে?’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy