Advertisement
E-Paper

মান বজায় রাখাই এ বার নয়া যুদ্ধ ‘বাংলার রসগোল্লা’র

জিআই-তকমা দেশেবিদেশে রসগোল্লা বা অন্য মিষ্টির ব্র্যান্ডিংয়ে বিশেষ সাহায্য করবে বলেই সরকারি কর্তারা আশাবাদী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তাই বাংলার নানা কিসিমের ঐতিহ্যশালী মিষ্টি বা কৃষিজাত পণ্যের জিআই আদায়ে কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্য।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:০৮
এ বার অপেক্ষা শুধু পাতে পড়ার। নিজস্ব চিত্র।

এ বার অপেক্ষা শুধু পাতে পড়ার। নিজস্ব চিত্র।

জিআই তকমা আদায় যুদ্ধ জয়ের একটা ধাপ মাত্র। এর পর ‘বাংলার রসগোল্লা’কে মেলে ধরার যুদ্ধটা আরও বেশি কঠিন।

মঙ্গলবার রসগোল্লাকে ঘিরে উল্লাসে আবহেও তাই কাজ করছে খানিক চোরা আশঙ্কা। খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ দফতরের কর্তারা তৃপ্তির হাসি হেসে বলছেন ঠিকই, এখন আর ভিন্‌ রাজ্যের কেউ যা হোক একটা কিছু ‘বাংলার রসগোল্লা’ বলে বিক্রি করতে পারবেন না! সে ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। কিন্তু বাংলা জুড়ে ছোট-বড় দোকানে রসগোল্লার মান বজায় রাখাটাও তলে তলে কার্যত অসাধ্যসাধনের চ্যালেঞ্জ হয়েই তাঁদের চোখ রাঙাচ্ছে।

গোটা রাজ্যে খুব ভাল থেকে খুব খারাপ, এক লক্ষ রসগোল্লা প্রস্তুতকারী রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতির কর্তারাই মনে করেন, তাঁদের সকলকে সংগঠিত করার কাজটা বেশ কঠিন। বাংলার রসগোল্লার হয়ে জিআই-আদায়ের জন্য রসগোল্লার উপাদান ও বৈশিষ্ট্য সংক্রান্ত নথি এবং ইতিহাসবিদদের সংগৃহীত তথ্য গুছিয়ে পেশ করেছিলেন, রাজ্য খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানবিদ্যা উন্নয়ন নিগমের অন্তর্গত ‘পেটেন্ট ইনফর্মেশন সেন্টার’-এর সিনিয়র সায়েন্টিস্ট মহুয়া হোমচৌধুরী। তাঁর কথায়, ‘‘জিআই-সংক্রান্ত পরিদর্শক কমিটির কাছে আবেদনের ভিত্তিতেই যোগ্যতা মেপে মিষ্টি প্রস্তুতকারকদের ‘বাংলার রসগোল্লা’-তকমা ব্যবহারে অনুমতি দেওয়া হবে।’’

আরও পড়ুন: রসগোল্লার পথেই স্বীকৃতি চাইছে মন্ডাও

তবে রসগোল্লার ক্ষেত্রে কিছু সুবিধাও আছে বলে মনে করেন খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের কর্তারা। তাঁদের মতে, রসগোল্লার বিপণনের বিষয়ে বাঙালি মিষ্টি প্রস্তুতকারকেরা ঢের আগেই সজাগ হয়েছিল। ১৯৩০-এর দশক থেকেই বাগবাজারের নবীন দাশের পুত্র কেসি দাশ-এর সংস্থার তরফে রসগোল্লা টিন-বন্দি করার প্রযুক্তি রপ্ত করা হয়। টিনের রসগোল্লার বিশ্বভ্রমণের নানা গালগল্প সৈয়দ মুজতবা আলির মতো বিশিষ্ট লেখকদের কলমেও স্বাদু হয়েছে। রসগোল্লা নিয়ে বাঙালির আবেগটাও রসগোল্লার প্রসারে সহায়ক হতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন। রসগোল্লার জন্য রাজ্যে নির্দিষ্ট লোগো তৈরিরও কাজ চলছে।

জিআই-তকমা দেশেবিদেশে রসগোল্লা বা অন্য মিষ্টির ব্র্যান্ডিংয়ে বিশেষ সাহায্য করবে বলেই সরকারি কর্তারা আশাবাদী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তাই বাংলার নানা কিসিমের ঐতিহ্যশালী মিষ্টি বা কৃষিজাত পণ্যের জিআই আদায়ে কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্য। আগে শিকে ছিঁড়েছিল দার্জিলিংয়ের চা বা মালদহের লক্ষ্মণভোগ আমের কপালে। গত কয়েক বছরে গোবিন্দভোগ চাল, দিনাজপুরের তুলাইপাঞ্জি চাল, জয়নগরের মোয়া, বর্ধমানের সীতাভোগ-মিহিদানা ছাড়াও কৃষ্ণনগরের সরপুরিয়ার জিআই-এর জন্য আবেদন করা হয়েছে। রানাঘাটের পান্তুয়া, বহরমপুরের ছানাবড়া, বডজোড়ার মেচা সন্দেশের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে এগোনোর চেষ্টাও চলছে।

Rosogolla Quality GI Bengal Odisha রসগোল্লা
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy