বিপদে পড়লে কী ভাবে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দেবেন, তা ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা এ বার ভাঙড়ের ভোটপ্রার্থী সওকাত মোল্লা আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ভাঙড়ে কয়েক মাস আগের বোমা-কাণ্ডের তদন্তে বৃহস্পতিবার এনআইএ নামার পরে সেই মতো বাংলাদেশে পালানোর তোড়জোড় সেরে ফেলেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। কোথা থেকে কী ভাবে পালাবেন, তার খুঁটিনাটি ঠিক করে জায়গা মতো মাছ ধরার ডিঙি নৌকা থেকে মোটরবাইক— সব মজুত ছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। এনআইএ এবং রাজ্য গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে আরও বেশি ক্ষিপ্রতায় তাঁর গতিবিধি বন্ধ করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের বক্তব্য, সুন্দরবনের উত্তর চুনাখালি থেকে পাঠানখালি হয়ে ছোট মোল্লাখালি গিয়ে, সাতজেলিয়ার ভিতর দিয়ে মরিচঝাঁপি এলাকা হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তের গোপালগঞ্জে পৌঁছনোর মতলব ছিল সওকাতের। সেই মতো নির্দিষ্ট গতিপথে দরকার মতো লোকজন মোতায়েন করেন। পথের সঙ্গী, ও-পারে ঢোকার দালাল থেকে সাতক্ষীরায় কোন আত্মীয়দের বাড়িতে থাকবেন, সব ঠিক ছিল। রাজ্য পুলিশ ও এনআইএ আগাম তদন্তে নেমে সওকাতের এই সব যোগসূত্র আগেই নষ্ট করে ফেলে। সওকাতের কয়েক জন ঘনিষ্ঠকে এবং বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার দালালদের আগেই পাকড়াও করেন গোয়েন্দারা।
গোয়েন্দা সূত্রে দাবি, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে এক ঘনিষ্ঠের বাড়িতে ছিলেন সওকাত। শুক্রবার সকালে এক ঘনিষ্ঠের মোটরবাইকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকার উত্তর চুনাখালিতে পৌঁছন। সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার দু’জন সঙ্গীকে আগেই আটক করেন রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা। এর ফলে সওকাতের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। গোয়েন্দারা অবশ্য তখনই সওকাতকে ধরতে পারেননি। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, তাঁরা সওকাতের ব্যবহার করা সাতটি মোবাইল ফোনে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি চালাতে থাকেন।
গোয়েন্দা কর্তাদের কথায়, এই নজরদারিতেই সওকাতের গতিবিধি ক্রমশ স্পষ্ট হয়। উত্তর চুনাখালি থেকে ফিরে ভাঙড়ের বামনঘাটায় এক ঘনিষ্ঠের বাড়িতে দুপুরে আশ্রয় নেন তিনি। তদন্তে উঠে এসেছে, তাঁর পালানোর ‘প্ল্যান বি’ ছিল বিমানে দিল্লি হয়ে নেপালে গিয়ে গা-ঢাকা দেওয়া। কিন্তু বিমানের টিকিট কাটলে ধরা পড়তে পারেন ভেবে সেই পরিকল্পনা আপাতত বাতিল করেন। রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সওকাতের তিনটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, ওই তিনটির মধ্যে একটি বাড়িতে শুক্রবার রাতে থাকার পরিকল্পনা করেন সওকাত। এটা বুঝে প্রথমে সোনারপুরে সওকাতের এক ঘনিষ্ঠকে আটক করে পুলিশ। তাঁকে কাজে লাগিয়েই সওকাতের পরের পরিকল্পনা জেনে নেন তদন্তকারীরা। সওকাত সোনারপুরে কোন বাড়িতে যাচ্ছেন জেনে শুক্রবার রাতেই কামালগাজিতে সওকাতকে ফাঁদে ফেলেন তদন্তকারীরা। তাঁকে সেখানেই গ্রেফতার করে নিউ টাউনের এনআইএ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)