মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। তৈরি হয়েছে ‘বোমার সংস্কৃতি’। বুধবার লোকসভায় এমনটাই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। মঙ্গলবার লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে অভিযোগগুলি করেছিলেন, তার জবাবও দিয়েছেন নির্মলা। জানিয়েছেন, অভিষেকের বক্তব্য সভাকে ভুল পথে চালিত করছে।
লোকসভায় বাজেট অধিবেশন চলছে। বুধবার কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলির জবাব দিতে গিয়েই পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে আঙুল তোলেন নির্মলা। তিনি বলেন, ‘‘বাংলায় শুধু বোমা চলে। আইন চলে না।’’ এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের জুন মাসে নদিয়ার কালীগঞ্জে বিধানসভার উপনির্বাচনের সময় তৃণমূলের বিজয়মিছিল থেকে ছোড়া বোমার আঘাতে ন’বছরের শিশুর মৃত্যু (তমন্না খাতুন)-র কথা উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে না-পেরে মমতা রাজ্যের মহিলাদের সন্ধ্যার পর রাস্তায় না-বেরোনোর পরামর্শ দেন।
কেন্দ্রীয় বাজেটে পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চনা করা হয়েছে বলে প্রথম থেকেই দাবি করে আসছে তৃণমূল। এই অভিযোগ নির্মলা মানতে চাননি। জানান, বাজেটে কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্পের প্রস্তাব রয়েছে যেখানে রাজ্যের মানুষের সুবিধার স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গ সরকার চাইলেই যোগ দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার লোকসভার ভাষণে অভিষেক নির্মলার বাজেটকে ‘আজীবন করের ফাঁদ’ বলে তোপ দেগেছিলেন। দাবি করেছিলেন, শিশুর দুধ, ডায়াপার থেকে শুরু করে শিক্ষা এবং শিক্ষার সামগ্রী, ওষুধপত্র সর্বত্র কর দিতে হচ্ছে। এমনকি, কেউ মারা গেলে তাঁর স্মরণসভায় ধূপকাঠি জ্বালাতেও কর লাগছে। অভিষেকের দাবিও উড়িয়ে দিয়েছেন নির্মলা। তিনি বলেছেন, দুধ, শিক্ষার সামগ্রী এবং শিক্ষায় জিএসটি আরোপের কথা বলে লোকসভার সদস্যদের বিভ্রান্ত করছেন অভিষেক। মৃত্যুর পর শেষকৃত্যের কাজকর্মে কোনও জিএসটি নেওয়া হয় না বলেও দাবি করেছেন নির্মলা।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর এই দাবির জবাব দিয়েছেন অভিষেক। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘আমি লোকসভায় যা বলেছি, সেই তথ্যগুলির উৎস ভাল করে খতিয়ে দেখে মন্ত্রী আজ উত্তর দেবেন ভেবেছিলাম। কিন্তু এতটা পরিশ্রম উনি করবেন, সেই দাবি করা আমার উচিত হয়নি হয়তো। আমাদের দুটো ভারতবর্ষ রয়েছে। একটিতে মানুষকে সামান্য পেঁয়াজ কিনতে সংগ্রাম করতে হয়। বেঁচে থাকাটাই সেখানে সংগ্রামের। অন্যটিতে দেশের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত মানুষটি হঠাৎ ঘোষণা করেন যে, তিনি পেঁয়াজ খান না এবং তাই তার দাম নিয়ে চিন্তিতও নন।’
তৃণমূলের তরফেও সমাজমাধ্যমে দুই ধরনের ভারতের উল্লেখ করে নির্মলাকে খোঁচা দেওয়া হয়েছে। লেখা হয়েছে, ‘হয়তো নির্মলার ভারতে শিশুরা তাজা দুধ খায়। আসল ভারতে গরিব মায়েরা গুঁড়ো দুধ জলে গুলে শিশুদের খাওয়ান। তার উপরে পাঁচ শতাংশ জিএসটি রয়েছে। ওঁর ভারতে হয়তো শিক্ষাসামগ্রী বিনামূল্যে পাওয়া যায়। আমাদের ভারতে পেন্সিল, ক্রেয়ন, খাতায় ১২ শতাংশ জিএসটি নেওয়া হয়। ওঁর ভারতে স্বাস্থ্য পরিষেবায় কর নেই। কিন্তু আমাদের ভারতে মেডিক্যাল অক্সিজেন, ইনসুলিন ও অন্যান্য চিকিৎসার সামগ্রীতে জিএসটি রয়েছে। আমাদের ভারতে শেষকৃত্যে জ্বালানো ধূপকাঠির উপরেও কর বসানো হয়েছে।’