দু’দিন পর অবরোধ উঠল কলকাতা হাই কোর্টে। তবে উঠল না বয়কট। কারণ, আইনজীবীদের একাংশ এখনও বয়কট চালিয়ে যাচ্ছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে। বুধবার সকাল থেকে অবশ্য স্বাভাবিক বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসে। পাশাপাশি, গত কয়েক দিন ধরে আদালতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তা নিয়ে সতর্ক করেছেন বিচারপতি মান্থা। আদালতের সম্মান যাতে নষ্ট না হয় তা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
গত সোমবার বিচারপতি মান্থার এজলাস বয়কট ঘিরে আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত বেধে যায়। কলকাতা হাই কোর্টের ১৩ নম্বর কক্ষ বন্ধ থাকা নিয়ে প্রতিবাদ জানান আইনজীবীদের একাংশ। তাঁরা জোর করে এজলাসে ঢুকতে গেলে বাধা দেন তৃণমূলপন্থী আইনজীবীরা। দু’পক্ষের মধ্যে বেধে যায় হাতাহাতি। এর পর শুরু হয় অবরোধ। তার দু’দিন পর বুধবার অবশ্য সেই ছবি দেখা যায়নি হাই কোর্টে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বসে আদালত। ঘটনাচক্রে, মঙ্গলবার বিকেলে আদালত অবমাননার রুল জারি করার পর থেকেই মান্থার এজলাসের বাইরে জমায়েত উঠে যায়। স্বাভাবিক নিয়মেই শুরু হয় আদালতের কাজ। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিচারপতি মান্থার এজলাসে ৭টি মামলার শুনানি হয়েছে। তবে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আইনজীবীদের একাংশ এখনও বয়কট চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্য দিকে, গত ২ দিন ধরে বয়কটের জেরে প্রায় ৫০০-র বেশি মামলার শুনানি সম্ভব হয়নি। আদালতে এসে ফিরে গিয়েছেন বিচারপ্রার্থীরা।
আরও পড়ুন:
-
জমি আন্দোলন ‘ভাঙতে’ মধ্যরাতে পুলিশি হানা, বেধড়ক মারধর, কৃষক বিক্ষোভে ফুঁসছে বক্সর
-
জোশীমঠের পর আলিগড়, পর পর বাড়িতে ফাটলের জেরে আতঙ্ক, অভিযোগ, নির্বিকার প্রশাসন
-
রাম-বাম জোটকে উড়িয়ে সমবায় তৃণমূলের, শুভেন্দুর জেলাতেই মুখ থুবড়ে পড়ল ‘নন্দকুমার মডেল’
-
নতুন বছরে তিলোত্তমার কোন ৫ জায়গা সবচেয়ে বেশি চর্চায় থাকবে? ঢুঁ মেরেছেন কি সেখানে?
বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিশ্বব্রত বসুমল্লিককে বিচারপতি মান্থা বলেন, ‘‘আপনাদের অনুরোধ করছি, এই আদালতের সম্মান নষ্ট করবেন না। শুধু মাত্র আমার এজলাস নয়, অন্য কোনও বিচারপতির ক্ষেত্রেও এমনটা যেন না ঘটে। দয়া করে সে দিকে নজর দিন।’’ বারের সম্পাদক উত্তর দেন, ‘‘এই এজলাসের সামনে আর কিছু হবে না। এই ঘটনা উচিত হয়নি। তবে দু’পক্ষ না থাকলে কোনও রায় বা নির্দেশ দেবেন না।’’