ক্রমশই করোনা সংক্রমণের ঘটনা বেড়ে চলেছে জলপাইগুড়ি জেলায়। সরকারি সূত্রে পাওয়া খবর, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ১৯ জনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এদের মধ্যে সাতজন ময়নাগুড়ির, চার জন নাগরাকাটা ব্লকের, এক জন রাজগঞ্জ ব্লকের বাসিন্দা। আর একজন জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের এক বন্দি। যদিও তিনি ১৩ মে থেকে শারীরিক কারণে প্রথমে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল ও পরে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি ছিলেন। ওই বন্দি আদতে আলিপুরদুয়ার জেলার বাসিন্দা। বাকি আক্রান্তদের বিষয়ে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে শনিবার রাত পর্যন্ত বিস্তারিত জানানো হয়নি।
করোনা মোকাবিলায় উত্তরবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক আধিকারিক সুশান্ত রায় জানান, শনিবার পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ জন। এ দিন আক্রান্ত ১৯ জনকেই জলপাইগুড়ি কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নতুন করে আক্রান্তরা সকলেই ভিন্ রাজ্য থেকে ফিরেছেন বলে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রমেন্দ্রনাথ প্রামাণিক জানান। এখন ভিন্ রাজ্য থেকে জেলায় ফিরছেন প্রচুর পরিযায়ী শ্রমিক। ফলে জেলায় সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন জেলা স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা।
২৮মে ময়নাগুড়ির এক আশা স্বাস্থ্যকর্মী ও এক নার্সিং পড়ুয়ার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। শনিবার দু’জনেই সুস্থ হয়ে জলপাইগুড়ি কোভিড হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তাঁরা সুস্থ হওয়ায় খুশি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
শুক্রবার পর্যন্ত জলপাইগুড়ি জেলা থেকে ৬,৫৫০ জনের লালারস উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে ৪,৫০০ জনের রিপোর্ট এসে পৌঁছেছে বলে স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে। ৩৩ জনের নমুনা বাতিল করেছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ল্যাব। কেন নমুনা বাতিল করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর।
সুশান্ত রায় জানান, জেলার কোন ব্লকের নমুনা বাতিল করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নমুনা সংগ্রহের কাজে কোনও দুর্বলতা থেকে থাকলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলেজানান তিনি।