Advertisement
E-Paper

দুই নয়া পর্যটনকেন্দ্র

বিরাট লেকের জল জুড়ে চোখ জুড়ানো কাঞ্চনজঙ্ঘার প্রতিচ্ছবি। পাহাড়ি ঢালে পাথুরে রাস্তার দু’পাশে পাইন গাছের সারি। হিলটপ থেকে চোখ মেললেই, তিস্তা। হেঁটে হেঁটে এলাচি বা আদা বাগানে ঘোরাফেরা। রয়েছে রক ক্লাইম্বিং-এর হাতছানিও।

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০১:৫২

বিরাট লেকের জল জুড়ে চোখ জুড়ানো কাঞ্চনজঙ্ঘার প্রতিচ্ছবি। পাহাড়ি ঢালে পাথুরে রাস্তার দু’পাশে পাইন গাছের সারি। হিলটপ থেকে চোখ মেললেই, তিস্তা। হেঁটে হেঁটে এলাচি বা আদা বাগানে ঘোরাফেরা। রয়েছে রক ক্লাইম্বিং-এর হাতছানিও। তাতে মন ভরলে পাহাড়ি জঙ্গলে ঘুরে পাখির কলতান শোনা বা ঝরনার নীল জলের পাশে বসে থাকা। এমনই অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ঘেরা কালিম্পঙের দু’টি এলাকাকে নিয়ে নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে, রাজ্য পর্যটন দফতর।

চলতি মাসেই কালিম্পংকে রাজ্যের ২১ তম জেলা হিসাবে ঘোষণা করবে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও পাহাড়ে আসার কথা রয়েছে। প্রশাসনিক পরিকাঠামোর সঙ্গেই নতুন জেলার পর্যটনকেও আরও ঢেলে সাজাতে চাইছে সরকার। সেই মতন, প্রথম পর্যায়ে কালিম্পঙের রিকিসুম এবং লিংসে’কে বাছা হয়েছে। দুই এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করে তাতে কটেজ গড়া ছাড়াও হোমস্টে-র মাধ্যমে নতুন জেলার পর্যটন মানচিত্রকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, ‘‘অপরূপ সুন্দর এই দু’টি জায়গা। পাহাড়, জঙ্গল, লেক, কাঞ্চনজঙ্ঘা সবই আছে। কালিম্পং নতুন জেলা হচ্ছে। পর্যটনকে নতুন করে সাজাতে তো হবেই।’’ মন্ত্রী জানান, লিংসে ঢোকার রাস্তাটির কয়েক কিলোমিটার একটু খারাপ রয়েছে। ফলে অনেকে সিকিম দিয়ে ঘুরে যান। রাস্তাটি তৈরিও পরিকল্পনায় রয়েছে। রিকিসুমের হোম-স্টে ভিত্তিক আলাদা পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। পযটন দফতরের যুগ্ম অধিকর্তা (উত্তর) সুনীল অগ্রবাল বলেন, ‘‘পরিকল্পনা তৈরি করে ইতিমধ্যে কলকাতায় পাঠানো হয়েছে।’’

শিলিগুড়ি থেকে ১০৪ কিলোমিটার দূরে লিংসে। পেডং লাগোয়া এলাকাটি পূর্ব সিকিমের আরিতার এলাকা ঘেঁষা। রয়েছে সুন্দর ট্রেকিং রুটও। মূলখাগড়া লেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। তেমনিই রয়েছে লেপচা গুম্ফা, হরেশ্বর শিবালয় মন্দির, একাধিক ঝরনা। ঘুরে আসা যায় নেওড়াভ্যালির জঙ্গলেও। রয়েছে এলাচ বাগান। লেপচা উন্নয়ন বোর্ডকে সঙ্গে নিয়ে অন্তত ১০টি কটেজ সম্বলিত পর্যটন কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। সঙ্গে রেঁস্তোরা, ল্যান্ডস্কেপিং তো থাকছেই। লিংসে ইকো টুরিজম সোসাইটির সম্পাদক বেদু ধাকাল বলেন, ‘‘এখন ৮টি হোমস্টে রয়েছে। তাতেই জায়গা মেলে না। রাজ্য পর্যটনের প্রকল্প হলে এলাকায় চেহারা পাল্টে যাবে।’’

লিংসে’র থেকে শিলিগুড়ি কিছুটা কাছে রিকিসুম, ৮৩ কিলোমিটার মত। এই পাহাড়ি গ্রামও একই রকম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর। হিলটপ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য ছাড়াও রমিতে ভিউ পয়েন্ট থেকে দেখা যায় তিস্তার অপরূপ দৃশ্য। পাইনের জঙ্গলে ট্রেকিং করার জন্য অনেকে আসেন রিকিসুম-এ। ইতিহাসের হাতছানিও রয়েছে এই গ্রামে। ১৯০২ সালের পুড়ে যাওয়া বৃটিশ বাংলো, কিছু এগোলেই রয়েছে ১৮৬৪ সালের অ্যাংলো-ভুটান যুদ্ধের সাক্ষী দামসাং কেল্লা’র বিভিন্ন অংশ। বন দফতরের সঙ্গে এখানে তৈরি হবে ৮টির মত হোমস্টে। স্থানীয়রাই সেগুলি পরিচালনা করবেন। মিলবে জৈব সারের শাক সব্জিও। ।

ইস্টার্ন হিমালয়া ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারের্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এতোয়া) কার্যকরী সভাপতি সম্রাট সান্যাল জানান, সরকারের এই উদ্যোগ পর্যটনের বিকাশে খুবই জরুরি।

Tourism Center
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy