Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১২ অগস্ট ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

জোট বোঝানো যায়নি, স্বীকার করলেন সূর্য

কংগ্রেসের সঙ্গে নির্বাচনী বোঝাপড়া আসলে জোট না আসন সমঝোতা, না কি আসন ভাগাভাগি, তা দ্রুততার সঙ্গে মানুষকে বোঝানো সম্ভব হয়নি৷ নিজেদের খারাপ ফল

নিজস্ব সংবাদদাতা
জলপাইগুড়ি ০৩ জুলাই ২০১৬ ০২:১৭
Save
Something isn't right! Please refresh.
জলপাইগুড়িতে সূর্যকান্ত মিশ্র।

জলপাইগুড়িতে সূর্যকান্ত মিশ্র।

Popup Close

কংগ্রেসের সঙ্গে নির্বাচনী বোঝাপড়া আসলে জোট না আসন সমঝোতা, না কি আসন ভাগাভাগি, তা দ্রুততার সঙ্গে মানুষকে বোঝানো সম্ভব হয়নি৷ নিজেদের খারাপ ফলের অন্যতম কারণ যে সেটা, আজ জলপাইগুড়িতে তা মেনে নিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র ৷

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক এদিন বলেন, “যে ভাবে এবারের বিধানসভা নির্বাচন লড়া হয়েছিল, তাতে করে একটা ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল৷ এবং সরকার অপসারণ করা যে সম্ভব, তা নিয়েও অনেকের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল৷ কিন্তু সময় এতই কম ছিল যে, কংগ্রেসের সঙ্গে এই বোঝাপড়া আসলে জোট না আসন সমঝোতা নাকি আসন ভাগাভাগি সেটা মানুষকে বোঝানো সম্ভব ছিল না৷ সে জন্যই আমরা সহজে বলবার চেষ্টা করতাম, এটা মানুষের জোট৷ দলমত নির্বিশেষে সেই সব মানুষের জোট, যাঁরা সরকারকে হঠাতে চায় এবং তৃণমূল ও বিজেপিকে পরাস্ত করতে চায়৷ কিন্তু এত দ্রুততার সঙ্গে মানুষকে সেটা বোঝানো যায়নি৷” তবে জোট নিয়ে তাঁর দলের অন্দরে যাই চলুক না কেন, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক কিন্তু এ দিন সাফ বলেন, “মানুষের জোট এ রাজ্যে দাঁড়াবে কি দাঁড়াবে না, তা ভবিষ্যৎই বলবে৷”

তবে দলের খারাপ ফলের জন্য এ দিন নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতার কথাও স্বীকার করে নিয়েছেন সূর্যবাবু৷ একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি৷ তার সাফ কথা, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ বলতে যা বোঝায়, তার পুরোটা এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে হয়নি৷ সূর্যবাবুর অভিযোগ, “নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী রাজ্যে ৯৯.৫০ শতাংশ ভোটারের এপিক কার্ড রয়েছে৷ অর্থাৎ এপিক কার্ড নেই মাত্র ০.৫০ শতাংশ মানুষের৷ অথচ, নির্বাচন কমিশনের তথ্য থেকেই জানতে পারলাম, একেকটা বিধানসভা কেন্দ্রে ষাট থেকে সত্তর হাজার ভোটারের ভোট হয়েছে পিভিএস বা ফটো ভোটার স্লিপের সাহায্যে৷” তার অভিযোগ, এই ফটো ভোটার স্লিপগুলি আদতে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের হাতেই ছিল ৷ তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, “এরপরও বলব, এবারের নির্বাচনে খারাপ ফলের জন্য সব চেয়ে বেশি দায়ি আমাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা৷”

Advertisement

বস্তুত, দলের সেই সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতেই শুক্রবার জলপাইগুড়িতে আসেন সূর্যকান্তবাবু৷ সঙ্গে রয়েছেন বিমান বসুও৷ দু’দিন ধরে দলের জেলা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা৷ জলপাইগুড়িতে কী করে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটানো যায় তা নিয়ে আলোচনা করেন৷ জলপাইগুড়িতে দলকে ঘুরে দাঁড় করাতে জেলার নেতাদের আন্দোলনে নামার পরামর্শ দেন তাঁরা৷ এ ক্ষেত্রে এই মুহুর্তের অন্যতম সমস্যা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ইস্যুতে আন্দোলন গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তাঁরা৷ বৈঠক শেষে বিমানবাবু বলেন, “মানুষের জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে দলকে আন্দোলনে নামতে হবে৷ দু’দিনের বৈঠকে দলের জেলা নেতাদের সেই পরামর্শই দিয়েছি৷” দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ইস্যুতে রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সরকার তো একটি টাস্ক ফোর্স তৈরি করেছিল৷ সেটা কী করছে ?”

এদিকে শুক্রবার জলপাইগুড়িতে আরএসপি-র রাজ্য সম্পাদক ক্ষিতি গোস্বামী বলেছিলেন, কংগ্রেসের নিয়ে সিপিএমের অবস্থান কী তা নিয়ে ব্যাখ্যা চাইবেন তিনি৷ সেই প্রসঙ্গে বিমানবাবু বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে কলকাতায় রাজ্য বামফ্রন্টের বৈঠকে আলোচনা হবে৷’’ এমনকি প্রয়োজনে আরএসপি-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও করবেন তাঁরা ৷

এ দিকে ঢাকায় জঙ্গি হামলা প্রসঙ্গে সূর্যবাবু বলেন, ‘‘বাংলাদেশ সরকার এই মুহুর্তে সেখানে একটা কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে রয়েছে৷ সীমান্তের এপাড়ে আমাদের সরকার ও সাধারণ মানুষের উচিত রাজ্যের মানুষের মধ্যে যে সম্প্রীতি রয়েছে তাকে অক্ষুণ্ণ রাখা৷’’

নিজস্ব চিত্র

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement