করোনায় ফের রেকর্ড মালদহে। এক দিনে নতুন করে ৪৪ জনের লালারসের রিপোর্ট পজ়িটিভ এল। ফলে জেলায় আক্রান্ত বেড়ে হল ৪২১ জন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এর মধ্যে রয়েছেন কালিয়াচক ১ ব্লকের ১৯ জন ও ইংরেজবাজার ব্লকের ১১ জন। বাকিরা অন্য ব্লক ও ইংরেজবাজার শহরের। ৯ মাসের একটি শিশু কন্যা, চার বছরের দু’টি শিশু যেমন রয়েছে, তেমনই স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশকর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার এবং পরিযায়ী শ্রমিকও রয়েছেন।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে আরও খবর, যেখানে এই জেলায় প্রথম ১০০ জন আক্রান্ত হতে সময় লেগেছিল ৩১ দিন, সেখানে দ্বিতীয় ১০০ জন ১২ দিনে, তৃতীয় ১০০ জন ৯ দিনে আক্রান্ত হন। আর চতুর্থ ১০০ জন আক্রান্ত হতে সময় নিল মাত্র ৮ দিন। তার উপর, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, একজন উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশকর্মী, আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও অভিযোগ, আক্রান্ত ৪০০ পার হলেও স্বাস্থ্য বিধি মানার বালাই নেই বাসিন্দাদের একাংশের। অনেকেই বিনা মাস্কে চলাফেলা করছেন। এ দিকে, স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, সোমবার বিকেল পর্যন্ত ২৯৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
ভিন্ রাজ্য থেকে বাড়ি ফেরার হার কমেছে মালদহে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, গত সাত দিন ধরে জেলা প্রশাসনের কাছে বাস বা ট্রাকে করে ফেরা শ্রমিকদের রেজিস্ট্রেশন হয়নি। তবে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনগুলিতে কিছু সংখ্যক শ্রমিক এখনও ফিরছেন। তাঁদের সরকারি কোয়রান্টিনে রাখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে তাঁদের নমুনাও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ দিকে, রবিবার রাতে যাঁদের রিপোর্ট পজ়িটিভ আসে, তাঁদের মধ্যে কালিয়াচক ব্লকের ১৯ জন রয়েছেন। আক্রান্তরা বেশির ভাগই পরিযায়ী শ্রমিক। কিছু শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত। তাঁদের সুজাপুর পলিটেকনিক কলেজে সেফ হোমে ভর্তি করা হয়েছে। মহিলা আক্রান্তদের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইংরেজবাজার ব্লকের ১১ জনের মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশাপাশি সিভিক ভলান্টিয়ারও রয়েছেন। জানা গিয়েছে, ট্রাফিকে কর্মরত পাঁচ জন সিভিক ভলান্টিয়ার ও এক জন হোমগার্ডও আক্রান্ত হয়েছেন। ইংরেজবাজার শহরে বালুচর এলাকার ৯ মাসের একটি শিশুকন্যাও আক্রান্ত। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘‘বাহ্যিক উপসর্গ না থাকায় কয়েক জনকে হোম কোয়রান্টিনে রাখা হয়েছে। ৯ মাসের শিশুটির পরিবারের ফোন নম্বর ভুল থাকায় ওই শিশুর এখনও খোঁজ চলছে।’’