বিজেপি ছাড়ার কথা জানিয়ে দিলেন আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ পাসাং ডিকি শেরপা। তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে ইতিমধ্যেই তিনি চিঠি দিয়েছেন বলে দাবি শাসকদলের জেলা শীর্ষ নেতাদের। যদিও তৃণমূলে ফেরা বা চিঠি দেওয়ার কথা মানতে চাননি পাসাং ডিকি।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে কালচিনিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা-র নির্বাচনী জনসভায় বিজেপিতে যোগ দেন তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রাক্তন মেন্টর মোহন শর্মা। তাঁর সঙ্গেই বিজেপিতে যান জেলা পরিষদের দুই কর্মাধ্যক্ষ পদ্মা রায় ও পাসাং ডিকি শেরপা। দলবদল করায় এই দু’জনের কর্মাধ্যক্ষের পদ ও মোহন, পদ্মা ও জেলা পরিষদের সদস্যপদ খারিজ করতে তৃণমূলের তরফে তৎপরতা শুরু হয়। এরই মধ্যে এ বার পাসাং ডিকি বিজেপি ছাড়ার কথা জানিয়ে দিলেন। তার ফলে মোহন শর্মা আরও কোণঠাসা হয়ে পড়লেন বলে, মনে করছেন জেলার রাজনৈতিক মহল।
রবিবার পাসাং ডিকি বলেন, ‘‘তৃণমূলে আমরা মিলেমিশে কাজ করতাম। কিন্তু বিজেপিতে কাজ করার কায়দাটাই আমার পছন্দ হয়নি। মন থেকেও বিজেপিকে আমি পছন্দ করতে পারিনি। সেজন্য বিজেপি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপির ওখানে যাচ্ছি না।’’ বিজেপির জেলা আহ্বায়ক ভূষণ মোদক অবশ্য বলেন, ‘‘এমন কোনও বিষয় আমার জানা নেই। তাই এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।’’
তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, ‘‘পাসাং ডিকি শেরপা ফের দলে ফিরতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিন বলে শুনেছি। তবে সেই চিঠি এখনও পর্যন্ত আমার হাতে আসেনি। আমার হাতে চিঠি এলে, বিষয়টি নিয়ে রাজ্য শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলব।’’ তবে তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে পুরনো দলের নেতাদের চিঠি দেওয়ার কথা মানতে চাননি পাসাং ডিকি। তিনি বলেন, ‘‘আমি এই মুহূর্তে নিরপেক্ষ রয়েছি। তৃণমূলের এক নেতা আমার সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে আমি কাউকে কোনও চিঠি দিইনি। তৃণমূলে ফিরব কিনা, সে ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্তও নিইনি।’’
এ দিকে, পাসাং ডিকি আচমকাই বিজেপি ছাড়ার কথা জানিয়ে দেওয়ায় কালচিনিতে কিছুটা হলেও হতচকিত মোহন শর্মার ঘনিষ্ঠরা। যদিও বিষয়টি নিয়ে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন ধরেননি মোহন।