রাজ্যে ক্ষমতায় না আসার হতাশায় এমনিতেই বিদ্ধ দলের নেতা-কর্মীদের একটা বড় অংশ। যা নিয়ে জেলা শীর্ষ নেতৃত্বের মনে একটা চিন্তা ছিলই। এরই মধ্যে কলকাতা পুর নির্বাচনের ফল তাঁদের সেই চিন্তা যেন আরও বাড়িয়ে দিল। আগামী দিনে আলিপুরদুয়ারে হতে চলা দু’টি পুরসভা নির্বাচনে কলকাতা পুরভোটের প্রভাব পড়ে কি না, সেই প্রশ্নেই জেলার গেরুয়া শিবিরের অন্দরে শুরু হয়ে গেল চর্চা। যে জেলা আবার উত্তরবঙ্গে বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। অন্য দিকে, আলিপুরদুয়ারে দুটি পুরসভা নির্বাচনের আগে কলকাতা পুরভোটের মঙ্গলবারের ফল যেন বাড়তি অক্সিজ়েন জোগাল জেলার বাম শিবিরে।
চা বলয় অধ্যুষিত আলিপুরদুয়ার জেলায় গত কয়ক বছর ধরেই নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়িয়েছে বিজেপি। যার জেরে গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলকে হারিয়ে দেন বিজেপি প্রার্থী। চলতি বছরে হওয়া বিধানসভা নির্বাচনেও জেলার পাঁচটি আসনের সব কটিতে জয়ী হয় বিজেপি। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতা দখল করে তৃণমূল। আর তার জেরেই হতাশায় আলিপুরদুয়ারে দলের নেতা-কর্মীদের অনেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন বলে বিজেপি সূত্রের খবর। অনেকে শিবির বদলে তৃণমূলেও যোগ দেন। রাজ্যে বাকি পুরসভাগুলির সঙ্গে আলিপুরদুয়ার ও ফালাকাটা পুরসভাতেও শীঘ্রই নির্বাচন হবে বলে ধারণা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের। এই পরিস্থিতিতে দলের নেতা-কর্মীদের অনেকে নিষ্ক্রিয় থাকায় এমনিতেই বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলা শীর্ষ নেতৃত্বের মনে চিন্তা বাড়াচ্ছিল। আর কলকাতা পুর নির্বাচনের ফল তাদের সেই চিন্তা যেন আরও বাড়িয়ে দিল। দলের আলিপুরদুয়ার শহরের এক নেতা বলেন, “এটা বাস্তব যে কলকাতায় পুর নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা যে তিনটি আসনে জয় পাব, সেটাও ভাবতে পারিনি। কিন্তু বেশির ভাগ ওয়ার্ডেই কেন আমরা দ্বিতীয় স্থানটাও পেলাম না, সেটাই প্রশ্ন। দলের অনেকে তা জিজ্ঞাসাও করছেন। জেলায় পুরভোটের আগে দলের অন্দরে এর প্রভাব পড়াটা অস্বাভাবিক নয়।” যদিও বিজেপির জেলা আহ্বায়ক ভূষণ মোদক বলেন, “কলকাতা পুরভোটের প্রভাব আলিপুরদুয়ার জেলার পুরভোটে পড়বে না। আমাদের সব নেতা-কর্মীরা লড়াই করতে প্রস্তুত।”
বিজেপির থেকে একটি আসনে কম জিতলেও, কলকাতা পুর নির্বাচনে বেশিরভাগ আসনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসায় উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে জেলার বাম শিবিরে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক কিশোর দাস বলেন, “একটা সময় তৃণমূলের বিকল্প হিসাবে মানুষের একটা অংশ বিজেপিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি হয়ে যাওয়া বিধানসভার উপ নির্বাচন থেকে গোটা রাজ্যেই সেই চিন্তার পরিবর্তন হচ্ছে। তৃণমূলের বিকল্প যে বামেরাই, সেটা মানুষ উপলব্ধি করতে পারেন। কলকাতার ফলাফল সেটাই প্রমাণ করেছে। আলিপুরদুয়ারেও আমরা ভাল ফল করব।”