মেয়ের বিয়ের বৌভাত ছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে পথ দুর্ঘটনায় মারা গেলেন মা। মৃত্যু হয়েছে আরও দু’জনের। আহত হয়েছে দুই শিশু সহ মোট ১২ জন কন্যাযাত্রী।
মঙ্গলবার রাত ১২টা নাগাদ মালদহ জেলার হবিবপুর থানার বেগুনবাড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনার পরে উৎসবের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আহতদের মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম ময়না হালদার (৪২), সমর হালদার (২২) এবং অলক হালদার (২৮)।
ময়নাদেবীর স্বামী নবকুমার হালদার পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। তাঁদেরই মেয়ে সাধনার বিয়ের বৌভাত ছিল এ দিন। সমরবাবু নববাবুরই আত্মীয়। গাড়িটিও তিনিই চালাচ্ছিলেন। অলকবাবু তাঁদের পড়শি। সকলেরই বাড়ি পুরাতন মালদহের বাচামারির হালদার পাড়া এলাকায়। একই এলাকার তিন জনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকার লোকেরাও শোকে ভেঙে পড়েছেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বামনগোলার বাসিন্দা প্রহ্লাদ হালদারের সঙ্গে বিয়ে হয় সাধনার। প্রহ্লাদ নিজের জমিতেই চাষবাস করেন। নববাবুর দুই ছেলে এবং এক মেয়ে। সাধনাই বড়। এ দিন বামনগোলায় প্রহ্লাদবাবুদের বাড়িতে ছিল বৌভাত। নববাবুরা একটি বাস ও ছোট গাড়ি নিয়ে মেয়ের বৌভাতে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানের পরে ছোট গাড়িটি করেই ফিরছিলেন ময়নাদেবী সহ পনেরো জন। রাস্তায় কুয়াশা ছিল। তার উপরে মালদহ-নালাগোলা রাজ্য সড়কে হবিবপুরের বেগুনবাড়িতে একটি বড় বাঁকও রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, ওই বাঁকের মুখেই কুয়াশার মধ্যে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা দেয়।
ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় গাড়ির চালক সমরবাবু ও তাঁর পাশের আসনে বসে থাকা অলকবাবুর। আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসকেরা ময়নাদেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ দিনের দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে দুই শিশু, চার মহিলা সহ মোট ১২ জন কন্যা যাত্রী। আহতদের মধ্যে রয়েছে একই পরিবারের চারজন। ইংরেজবাজার থানার আমজামতলার বাসিন্দা সিদাম হালদার সপরিবারে বৌভাতের নিমন্ত্রণে গিয়েছিলেন। তিনি জানান, ফেরার পথে হবিবপুরে একটি এলাকায় রাস্তার উপরে বাঁক ছিল। সেই সঙ্গে ছিল কুয়াশাও। এ ছাড়া গাড়ির গতিও দ্রুত ছিল। তিনি বলেন, ‘‘চালক বাঁক সামলাতে না পেরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয় রাস্তার ধারের একটি গাছে। আমরা সকলেই ছিটকে পড়ি।’’ তাঁর স্ত্রী উৎপলাদেবী ও দুই ছেলেও আহত হয়েছে। পিছনে থাকা বাসটি থেকে বাকি কনেযাত্রীরা নেমে তাঁদের উদ্ধার করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহ-নালাগোলা রাজ্য সড়কের উপরে হবিবপুরের বেগুনবাড়িতে রাস্তার উপরের এই বাঁকটিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা এড়াতে এবং গাড়ির গতি যাতে কম থাকে তার জন্য রাস্তার মাঝে দেওয়া রয়েছে রোড ডি ভাইডার। কুয়াশার জন্য চালক ওই ডিভাইডার দেখতে পাননি বলে প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান। সেই সঙ্গে গাড়ির গতিও বেশি ছিল। সাধনার ভাই কার্তিক বলেন, ‘‘গাড়িতে আমরা অনেকেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ গাছে ধাক্কা লেগে আমরা দুর্ঘটনায় পড়ি। আমাদের পিছনে থাকা পরের গাড়িটি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। কেন এমন হল তা আমরা বুঝতে পারছি না।’’ নবকুমারবাবু বলেন, ‘‘আমরা দু’টি গাড়ি এক সঙ্গে যাওয়ার কথা বলেছিলাম। তবে ছোট গাড়িটি নিয়ে ওরা আমাদের আগে বেরিয়ে পড়ে। এরপরেই দুর্ঘটনার কথা জানতে পারি।’’