মেয়ে জেগে উঠলেই ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছেন মা।
বৃহস্পতিবার উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ার রামপুরে পুলকারের সঙ্গে দশ টাকার ট্রাকের ধাক্কায় ৬টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে সুস্মিতা রায় সরকার, রজত চৌধুরীদের মতো আরও বেশ কয়েকজন শিশু ছাত্রছাত্রী। দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়া সুস্মিতা, রজতকে শিলিগুড়ির সেবক রোডের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়েছে। সেই রাত থেকেই শুরু হয়েছে চিকিৎসা। কিন্তু সেই দুর্ঘটনার আতঙ্ক কাটছে না। চিকিৎসকদের বক্তব্য, সুস্মিতাদের শারীরিক আঘাত সারিয়ে তোলা সহজ। কিন্তু তাদের মনে যে বড় আঘাত লেগেছে, তার নিরাময় হতে সময় লাগবে। সুস্মিতা বারবার জেগে উঠলেই তার মুখ চোখ দেখে বোঝা যাচ্ছে আতঙ্ক তাকে ছাড়ছে না।
কখনও অঝোরে কাঁদছে, কখনও আবার হাজার ডাকাডাকিতে মুখ ফুটে কিছু বলছে না, ভয়ে কেঁপে উঠছে সুস্মিতা। তাই মেয়ে জেগে উঠলেই ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছেন মা শীলা রায় সরকার। রামপুরে স্কুল পড়ুয়াদের গাড়ির সঙ্গে বিধি ভেঙে একমুখী রাস্তায় ঢুকে পড়া ট্রাকের ধাক্কার সময় গাড়ির পিছনের সিটে ছিল সুস্মিতা। দুর্ঘটনার পরেই সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে। এলাকার বাসিন্দারাই সুস্মিতাকে কিসানগঞ্জের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেন তাকে। সেখান থেকে বিকেলেই পরিবারের সদস্যরা সুস্মিতাকে শিলিগুড়ির সেবক রোডে একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করান।
এই নার্সিংহোমেই ভর্তি রয়েছে আরও এক পড়ুয়া রজত চৌধুরী। সুস্মিতার মাথায় বুকে চোট রয়েছে। তবে সিটি স্ক্যান এবং এক্সরে রিপোর্টে অস্বাভাবিক কিছু মেলেনি বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে। যদিও, নার্সিংহোমের তরফে জানানো হয়েছে, সুস্মিতার ‘ট্রমা’ এখনও কাটেনি। রজতের থুতনিতে চোট রয়েছে, বাঁ পায়ের হাড় ভেঙেছে বলে নার্সিংহোম জানিয়েছে। দুই শিশুই বিপন্মুক্ত বলে জানানো হয়েছে।
গাড়ি চালকও শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে ভর্তি রয়েছেন। জখম বাকি পড়ুয়ারা কোথায় রয়েছেন, তার খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ এবং স্বাস্থ্য দফতর।
এ দিন নার্সিংহোমে সুস্মিতার বাবা ওষুধ ব্যবসায়ী দিলীপবাবু বলেন, ‘‘দু’বছর ধরে গাড়িতেই যাতায়াত করে। জাতীয় সড়ক একমুখী হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাই নেই। তবু যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বিধি ভেঙে উল্টো মুখে ট্রাক ঢুকে পড়ে। তার জন্যই এই অবস্থা। আমার মেয়ে অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছে, কিন্তু দুর্ঘটনায় আমার ভাইপোকে হারিয়েছি’’