Advertisement
E-Paper

প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বে এ বার অবস্থান

বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে দলের অন্দরের কোন্দলকে ঘিরে এ বার শিলিগুড়িতে মঞ্চ বেঁধে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়ল তৃণমূলের একদল কর্মী সমর্থক। সোমবার রাত থেকে শিলিগুড়ির ৩ নম্বর ওয়ার্ডে গুরুঙ্গ বস্তি বাজার এলাকায় মঞ্চ বেঁধে তৃণমূলের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি গোপাল সাহাকে প্রার্থী করার দাবিতে অবস্থান শুরু করেছেন তারা। গত শুক্রবার ওই ওয়ার্ডে গোপালবাবুর উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণের অভিযোগও উঠেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০১৫ ০৩:০৯
চলছে বিক্ষোভ-অবস্থান। —নিজস্ব চিত্র।

চলছে বিক্ষোভ-অবস্থান। —নিজস্ব চিত্র।

বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে দলের অন্দরের কোন্দলকে ঘিরে এ বার শিলিগুড়িতে মঞ্চ বেঁধে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়ল তৃণমূলের একদল কর্মী সমর্থক।

সোমবার রাত থেকে শিলিগুড়ির ৩ নম্বর ওয়ার্ডে গুরুঙ্গ বস্তি বাজার এলাকায় মঞ্চ বেঁধে তৃণমূলের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি গোপাল সাহাকে প্রার্থী করার দাবিতে অবস্থান শুরু করেছেন তারা। গত শুক্রবার ওই ওয়ার্ডে গোপালবাবুর উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণের অভিযোগও উঠেছে। তা নিয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করাও হয়েছে। ওয়ার্ডে তৃণমূলের অপর পক্ষ প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জয় পাঠককে প্রার্থী করার দাবি তুলেছে। গোপালবাবুর অনুগামীরা তাঁকে বহিরাগত আখ্যা দিয়ে প্রার্থী না করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। যদিও দুই জনের নামই সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছে বলে দলের তরফে জানা গিয়েছে। তবে গোপালবাবুকে প্রার্থী করা না হলে তাঁর অনুগামীরা দলের হয়ে ক্ষোভ প্রপক্রিয়ায় অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন। তাতে অন্তর্ঘাতের সম্ভাবনা করছেন দলের একাংশ।

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব প্রার্থী তালিকা নিয়ে কলকাতায় গিয়েছেন। এ দিন তা রাজ্য নেতৃত্বের হাতে তুলেও দিয়েছেন তিনি। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী বলেন, “রাজ্য নেতৃত্ব অনুমোদন দিলেই চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হবে।” গুরুঙ্গ বস্তি বাজার এলাকায় বিক্ষোভ অবস্থানের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি অবশ্য তা গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি বলেন, “কলকাতায় রয়েছি। সেখানে কী হচ্ছে জানা নেই।”

এলাকার বাসিন্দা বিকাশ বড়ুয়া, ঝন্টু সাহা, বিমলেশ সিংহ, উৎপল সাহা, গীতা গোস্বামী, রমেশ যাদবরা অবস্থান মঞ্চে এ দিন দিনভর ছিলেন। বিকাশবাবুদের দাবি, সঞ্জয়বাবু এলাকার বাসিন্দা নন। তিনি ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে কাউন্সিলর হয়েছেন। পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগ দেন। অন্য দিকে গোপালবাবু এই এলাকারই বাসিন্দা। গত ৫ বছর তিনি দলের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ছিলেন। তাকে প্রার্থী করা না হলে আমরা দলের হয়ে ভোটে অংশ নেব না।

শুধু ৩ নম্বর ওয়ার্ডই নয় প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ রয়েছেন অনেক ওয়ার্ডেই। ৩১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে গত সোমবারই দলের ওয়ার্ড কমিটির সভানেত্রী জনা বাগচী পদত্যাগ করেছেন। যদিও তিনি প্রার্থী হওয়ার ব্যাপার নিয়ে পদত্যাগ করেননি বলে দাবি করেন। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের একাধিক প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করা হয়। তাঁর মধ্যে বিমলেশ মৌলিককে চাইছেন এক পক্ষ। অপর পক্ষ অসীম রায়কে প্রার্থী করার পক্ষে। জেলা নেতৃত্বের কয়েকজন অসীমবাবুর পক্ষ নেওয়ায় ক্ষুব্ধ বিমলেশবাবুর অনুগামীরা। তাঁরা জানান, এতদিন বলা হয়েছিল বিমলেশবাবুকেই প্রার্থী করা হবে। কিছু নেতা তাদের পছন্দের লোককে প্রার্থী করতে চাইছেন বলে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তৃণমূলের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি স্বপন দাসের স্ত্রী রীনা দেবীকে প্রার্থী করার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। তবে অপর গোষ্ঠী পিঙ্কি সাহা নামে অপর এক নেত্রীকে প্রার্থী করার দাবি জানিয়েছে। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রবীণ তৃণমূল নেতা প্রতুল চক্রবর্তীকে প্রার্থী হিসাবে চাইছেন তাঁর অনুগামীরা। তবে প্রার্থী হতে চেয়ে আবেদন জমা পড়ে একাধিক।

তৃণমূলের অন্দরের খবর, বিদায়ী কাউন্সিলর অলোক ভক্তকে অন্য ওয়ার্ডে টিকিট দিয়ে ওয়ার্ডে নবীন প্রজন্মের প্রতিনিধি বাসু শিকদারের নাম বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছিলেন দলের শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন। বাসুবাবু এখনও হাল ছাড়েননি বলে তৃণমূলের অন্দরের খবর। তবে প্রবীণ নেতা প্রতুলবাবুর অনুগামীরা রাজ্য নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়ে তাঁর টিকিট প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছেন। উপরন্তু, টিকিট না পেলে প্রতুলবাবু নির্দল হিসেবে দাঁড়াতে পারেন বলেও আশঙ্কা রয়েছে দলের অন্দরে। এই অবস্থায়, গত পুরভোটে জেতা অলোক ভক্তকে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী করার কথাও উঠেছে তৃণমূলের মধ্যেই।

candidate tmc siliguri
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy