Advertisement
E-Paper

নরমাংস খাওয়ার জন্যই কি খুন? দিনহাটায় শ্মশানবাসীকে হত্যায় ধৃত অভিযুক্ত! দেহ এনে পরিষ্কার করা হয় বাড়ির পাশে কলতলায়

দিনহাটার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধীমান মিত্রের কথায়, “খুব নৃশংস ভাবে হত্যাটি করা হয়েছে। খুব বীভৎস হত্যা।” এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নরমাংস ভক্ষণের কিছু বৈশিষ্ট্যও পাওয়া গিয়েছে বলেও জানান তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২০
কোচবিহারে গত সপ্তাহে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয়।

কোচবিহারে গত সপ্তাহে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয়। — প্রতীকী চিত্র।

কোচবিহারের দিনহাটায় শ্মশানবাসী এক ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম ফিরদৌস আলম। পুলিশের সন্দেহ, নরমাংস খাওয়ার জন্যই তিনি ওই ব্যক্তিকে খুন করে থাকতে পারেন। খুনের পরে তিনি দেহটি বাড়ির পাশের একটি কলতলায় পরিষ্কার করেন বলেও জানতে পারে পুলিশ। তাঁকে জেরা করে এ বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

গত শনিবার দিনহাটার কুরসার হাটে একটি শ্মশান এলাকা থেকে উদ্ধার হয় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির দেহ। শরীরে ছিল একাধিক ক্ষতচিহ্ন। দেহটি দেখেই পুলিশের অনুমান হয়, তাঁকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। শুক্রবার রাতেই তাঁকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করে পুলিশ। মৃতের গলায় এবং ঘাড়ে ক্ষতচিহ্ন ছিল।

সেই সূত্র ধরেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তবে ঘটনাটি ঘটেছিল একটি প্রত্যন্ত জায়গায়। চারদিক ফাঁকা। আশপাশে কোনও সিসি ক্যামেরাও ছিল না। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন তদন্তকারীরা। তবে মৃতের নামপরিচয় কিছু জানতে পারেননি তাঁরা। এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, মৃত ওই ব্যক্তি প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে শ্মশানেই থাকতেন। তিনি সম্ভবত মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে জানতে পারে পুলিশ।

দিনহাটার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধীমান মিত্রের কথায়, “খুব নৃশংস ভাবে হত্যাটি করা হয়েছে। খুব বীভৎস হত্যা।” কিন্তু এক জন অজ্ঞাতপরিচয়, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে কেউ এ ভাবে কেন হত্যা করবে, তা ভেবে পাচ্ছিলেন না তদন্তকারীরা। খুনের নেপথ্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা জানা যাচ্ছিল না।

শেষে গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পায় ফিরদৌসই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। সেই সূত্র ধরে অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। প্রাথমিক জেরায় অভিযুক্ত হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় পুলিশ। এসডিপিও-র কথায়, “সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর পিছনে তাঁর সে রকম কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। জাস্ট খুন করার জন্য খুনটি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সাক্ষীর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, তিনি হত্যার পরে দেহটি বাড়ির পাশে নিয়ে আসেন। সেখানে একটি কলতলায় মৃতদেহটি পরিষ্কার করেন। প্রত্যক্ষদর্শী কিছু ব্যক্তির থেকে জানতে পারি, মৃতদেহটি খাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল তাঁর। ক্যানিবলিজ়ম (নরমাংস ভক্ষণ)-এর কিছু বৈশিষ্ট্য এখানে পাওয়া যাচ্ছে। এটি অত্যন্ত বিরল একটি অপরাধ। এ ক্ষেত্রে তেমন কিছু ঘটে থাকতে পারে বলে আমরা মনে করছি। তদন্ত চলছে।”

ধৃত ফিরদৌস সর্বক্ষণ নেশাগ্রস্ত হয়ে থাকতেন বলেও জানতে পারে পুলিশ। এসডিপিও জানান, নেশা ছাড়ানোর জন্য অভিযুক্তকে অতীতে বেশ কয়েক বার ‘রিহ্যাব’ (নেশামুক্তি কেন্দ্র)-এও পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “অভিযুক্তের কথাবার্তা অত্যন্ত খাপছাড়া। অসংলগ্ন। নেশা করে করে মস্তিষ্কের বিকৃতির কিছু আভাস মিলেছে। তবে মানসিক ভারসাম্যের সমস্যার কোনও প্রামাণ্য নথি নেই। অতীতে কোনও অপরাধের প্রমাণ নেই।” পুলিশের অনুমান, ওই ব্যক্তি সহজ টার্গেট বলেই তাঁকে খুন করেছেন ফিরদৌস।

Murder Case Dinhata Cooch Behar
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy