মঙ্গলবার রাত অবধি জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কত, বিভ্রান্তি তৈরি হল কয়েকটি তথ্য নিয়ে। জেলা বুলেটিনে বলা হয়েছে, জলপাইগুড়ি জেলায় করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা আরও সাত জন বেড়ে ৯৭ থেকে হয়েছে ১০৪। যদিও রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, জলপাইগুড়ি জেলায় এই সংখ্যা এখনও ১০০। অন্য দিকে, মঙ্গলবার নতুন করে জলপাইগুড়ি জেলায় কোনও সংক্রমণের খবর নেই বলে জানিয়েছেন করোনা মোকাবিলায় উত্তরবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক চিকিৎসক সুশান্ত রায়।
মঙ্গলবার রাতে সুশান্ত রায় বলেন, ‘‘এ দিন নতুন করে জেলায় করোনা আক্রান্তের কোনও খবর নেই। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো ৩০০ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এ ছাড়া জলপাইগুড়ি কোভিড হাসপাতালে ট্রুন্যাট পরীক্ষায় ২৮ জনের রিপোর্টও নেগেটিভ এসেছে।’’
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জলপাইগুড়ি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপার অভিষেক মোদী, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রমেন্দ্রনাথ প্রামাণিক, করোনা মোকাবিলায় উত্তরবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক চিকিৎসক সুশান্ত রায় এবং অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকদের এক জরুরি বৈঠক বসে। জেলা পুলিশ সুপার অভিষেক মোদী জানান, প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠক প্রসঙ্গে সুশান্ত রায় জানান, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় আরও বাড়াতেই এই বৈঠক । সোমবার গভীর রাতে জেলায় করোনা আক্রান্তের চার জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছিল বলে সুশান্ত রায় জানান। তাঁদের জলপাইগুড়ি কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। জলপাইগুড়ি কোভিড হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত ৮১ জন ভর্তি রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ দিকে, স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, জলপাইগুড়ি কোভিড হাসপাতালের সারি বিভাগে ভর্তি থাকা এক রোগীর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসায় তাঁকে কোভিড বিভাগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাতের রিপোর্টে ময়নাগুড়ির এক দমকলকর্মীর করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাগুড়ির ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক লাকি দেওয়ান। এ ছাড়াও ময়নাগুড়ির আরও একজন পরিযায়ী শ্রমিকের রিপোর্টও পজিটিভ এসেছে বলে জানান তিনি।
চিকিৎসক সুশান্ত রায় বলেন, ‘‘জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত শিলিগুড়ি কর্পোরেশন এলাকার করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা এখন থেকে শিলিগুড়ি কোভিড হাসপাতালেই করা হবে।’’